মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ বিদায়ী ২০১৯ সালে যশোর সদরে ঘটেছে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। যার অধিকাংশের রহস্যও উদঘাটন করেছে আইন-শৃঙ্খলা রা বাহিনী। তবে কোন কোন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতরা আটক হলেও আবার অনেক খুনের পরিকল্পনাকারী ও মূল কিলাররা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই পরিকল্পনাকারী ও মূল কিলাররা আটক না হওয়ায় নিহতের স্বজনদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরে সদর উপজেলায় ২৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বছরের প্রথমদিনেই নৃশংসভাবে খুন হন ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফা। আর বছরের শেষের দিকে খুন হন আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। চাঞ্চল্যকর ১০টি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা উল্লেখ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী শাফি হত্যাকাণ্ড ঃ ২০১৯ সালের প্রথমদিনেই যশোরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মোটর পার্টস ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফা। ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের ঈদগাহের পূর্ব পাশে মুজিব সড়কে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই খুনের পরিকল্পনাকারী ছিলেন আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ার রেজা চৌধুরী ওয়াশিংটন। পাওয়া টাকা দাবি করায় ভাড়াটে কিলার দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। অবশ্য ডিবি পুলিশ পরবর্তীতে কিলার গং এবং পরিকল্পনাকারীকে আটক করতে সম হয়।
শিশু তৃষা ধর্ষণ ও হত্যা ঃ যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী কথা আফরিন তৃষা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বিবেকমান মানুষের মনে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছে। তারা হতবাক হয়েছেন মানুষরূপী হায়েনাদের এই নৃশংস কর্মকাণ্ডে। তৃষা যশোর সরকারি কারবালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলো। তার পিতা তরিকুল ইসলাম একজন ইজিবাইক চালক। খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ার (স্যালভেশন আর্মি পাড়া) একটি বাড়িতে তারা ভাড়া থাকতো। গত ৩ মার্চ বিকেলে আরবি পড়া শেষে খেলা করতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরদিন সন্ধ্যায় বাসার কাছে পাওয়া যায় তার মাটিচাপা লাশ। এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী শক্তি গাজীসহ কয়েকজন তাকে ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়েন। ধর্ষক ও খুনিদের আটকের দাবিতে বিােভে ফেটে পড়েন সর্বস্তরের মানুষ। তার স্কুলের শিার্থীরা ছাড়াও এলাকার শ শ মানুষ মানববন্ধন পালন করেন। পরে এ ঘটনার সাথে জড়িত শামীম নামে এক যুবক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আরো এক যুবক আটকের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। কিন্তু এক পর্যায়ে কুখ্যাত শক্তি গাজীর হুমকির কারণে খোলাডাঙ্গা ছাড়তে বাধ্য হন তৃষার মা ও পিতা। যশোর ছেড়ে তারা চলে যান নড়াইলে।
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সাজু হত্যাকাণ্ড ঃ চাঁদার দাবিতে যশোর জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহম্মেদ জিসানের হাতে একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি খুনের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়। শহরের পুরাতন কসবা মিশন পাড়ার জয়নাল চৌধুরী স্বপনের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন ছাত্রলীগের ওই নেতা। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত ১৩ মার্চ রাতে শহরের বিমান অফিসের সামনে তার ছোট ছেলে ওয়ল্ডিং মিস্ত্রি নয়ন চৌধুরী সাজুকে কাঠের রুল দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন জিসান। তার সঙ্গীরাও তাকে বেদম প্রহার করেন। সাজুর বুকের ওপর উঠে চটকানো হয়। পরদিন ১৪ মার্চ বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাজু। এ ঘটনায় ছাত্রলীগহ নেতা জিসানসহ ৪ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রা বাহিনী আজো ছাত্রলীগ নেতা জিসানসহ মামলার অন্য আসামিদের আটক করতে পারেনি।
ইমরোজ হত্যাকাণ্ড ঃ যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামে মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইমরোজ হোসেন নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ২৪ জুলাই দুপুরে তাকে হত্যা করা হয়। ইমরোজ খুনের ঘটনায় ওই এলাকা উত্তাল হয়ে পড়ে। ঘটনার সাথে জড়িত জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা সেলিম রেজা পান্নুসহ কয়েকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। সন্ত্রাসীদের আটকের দাবিতে চাঁচড়া ও যশোর শহরে পৃথক মানববন্ধনও পালন হয়। তবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইমরোজ খুনের সাথে জড়িত কয়েকজনকে আটক করতে সম হয়। এছাড়া প্রধান আসামি সেলিম রেজা পান্নুসহ কয়েকজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির বন্দুকযুদ্ধে খুন ঃ যশোরে আওয়ামী লীগের এমপি গ্র“প আশ্রিত শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির ঘোষ কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা বিদায়ী বছরে আলোচিত ছিলো। বেশ কয়েক বছর আগে মুসলিম একজন স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও শাঁখা সিঁদুর দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ সংক্রান্ত মামলায় আদালতে তার ৪৬ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিলো। কিন্তু কয়েক বছর পর সে আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর তার খুন, চাঁদাবাজি ও নারীদের সম্ভ্রমহানির ঘটনায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। অবশেষে গত ৬ আগস্ট রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির ঘোষের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
পরকীয়ার পরিশোধ নিতে ১৫ বছর পর হত্যা ॥ স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার পরিশোধ নিতে সদরের শালতা গ্রামে মিনারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খুনের ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়। গত ১৪ আগস্ট রাতে খুন হয়েছিলেন তিনি। ১৫ বছর আগে একই গ্রামের চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমানের স্ত্রী সাবিনার সাথে মিনারুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। এ ঘটনায় হাফিজুর রহমান স্ত্রীকে তালাক দিলেও তাকে ভুলতে পারেননি। কারণ তিনি সাবিনাকে খুব ভালবাসতেন। ১৫ বছর ধরে তিনি প্রতিশোধের স্পৃহা লালন করে আসছিলেন। মিনারুলকে খুন করার মাধ্যমে স্ত্রীর সাথে পরীকায়ার প্রতিশোধ নেন তিনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের হাতে আটকের পর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন হাফিজুর রহমান।
গাড়িচালক জগলু হত্যাকাণ্ড ঃ ঝিনাইদহের এলজিইডি অফিসের গাড়িচালক হাসানুজ্জামান জগলু যশোরে খুন হওয়ার ঘটনা ছিলো আরেকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হন তিনি। গত ২৭ আগস্ট রাতে কৌশলে তার স্ত্রী ঝিনাইদহ থেকে যশোরে এনে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরদিন যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের বারীনগর-চুড়ামনকাটির মাঝামাঝি সাকোর মাথা নামক স্থান থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কলেজছাত্র পল্লব হত্যাকাণ্ড ঃ যশোর সদর উপজেলার জঙ্গলবাধাল গ্রামে কলেজছাত্র পল্লব খুন এবং তার লাশ ঘরের মধ্যে এক মাস ধরে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু ঈশান ও অপূর্ব গত ১৪ অক্টোবর শ্বাসরোধে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এরপর অপূর্ব তার নানা আজিজার মাস্টারের একটি ঘরের ভেতর খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিলো। শুধু তাই নয়, মাটিচাপা দেয়া ঘরে কয়েকদিন রাতও কাটায় অপূর্ব। তবে শেষমেষ দুই বন্ধু ধরা পড়ে যায়। এরপর ৯ নভেম্বর মাটি খুঁড়ে পল্লবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আইনজীবী আমিরের স্ত্রী হত্যাকাণ্ড ঃ যশোরে যৌনকর্মীর সাথে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া আইনজীবী আমির হোসেনের স্ত্রী সালেহা খাতুন সোনিয়া খুনের বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত ছিলো। গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ডহেরপাড়ায় নিজ বাড়িতে আমির হোসেন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আমির হোসেনকে আটকও করে। বর্তমানে আলোচিত ওই আইনজীবী কারাগারে আটক রয়েছেন। এছাড়া স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে যশোর আইনজীবী সমিতি তাকে শো-কজও করে।
সাবেক চরমপন্থি হোসেন খুন ঃ যশোর সদর উপজেলার উত্তরাঞ্চলে হোসেন আলী তরফদার নামে একজন সাবেক চরমপন্থিকে অসংখ্য মানুষের সামনে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলো বিদায়ী বছরে। গত ৩০ নভেম্বর সকালে তাকে সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের হাশিমপুর বাজারে হত্যা করে প্রতিপ চরমপন্থিরা। হোসেন আলী তরফদার একসময় চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতি করতেন। এক পর্যায়ে তিনি সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করলে তাকে বিশেষ আনসার সদস্য পদে চাকরি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণ করলেও চরমপন্থি রাজনীতির আদর্শ লালন করতেন। তাছাড়া স্থানীয় প্রতিপ সর্বহারা পার্টির ক্যাডারদের সাথে নানা কারণে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এর জের ধরে তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে প্রতিপ চরমপন্থিরা। অবশ্য ডিবি পুলিশ খুনের সাথে জড়িত ৮ জনকে আটক করতে সম হয়েছে। এর মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে মূল কিলার জুয়েল ও মুন্নাকে আজো আটক করা যায়নি।
এছাড়া গত ৯ ফেব্র“য়ারি সন্ধ্যায় দিকে শহরতলীর শেখহাটি ভাটার জোড়া পুকুর এলাকায় প্রতিপরে ছুরিকাঘাতে খুন হন আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪) নামে এক যুবক। ৮ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি সরদার বাগডাঙ্গা গ্রামের রিপা বেগম নামে একজন গৃহবধূর লাশ স্থানীয় একটি বিলের ধানতে থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগেরদিন ৭ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। ২০ এপ্রিল দুপুরে সদর উপজেলার বাহাদুর জেস গার্ডেন পার্কের পাশে খুন হন শহিদ কাজী (২৮) নামে এক মিল শ্রমিক। তিনি মাগুরার সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের লোকমান কাজীর ছেলে। ১৩ জুন মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের শংকরপুর সন্ন্যাসীর দিঘিরপাড়ে প্রতিপরে ছুরিকাঘাতে খুন হয় ফেরদৌস (২০) নামে এক যুবক। সে নাজির শংকরপুর সাদেক দারোগার মোড়ের আজাদ হোসেনের ছেলে। ১৯ জুন শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় প্রতিপ সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে নিহত হয় সানি নামে এক যুবক। ২০ জুন সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের গ্যাসফিল্ডের পাশে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে খুন হয় মাদ্রাসা ছাত্র সাজেদুর রহমান স¤্রাট (১৬)। প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। একইদিন সকালে শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গাজীর বাজার এলাকার জনৈক সেতুর মটর গ্যারেজের পাশের একটি ড্রেন থেকে সিনবাদ (৩২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি পুরাতন কসবা মানিকতলা এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। চোরাই মোবাইল বেচাকেনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপরা তাকে হত্যা করে। ১ আগস্ট সদর উপজেলার নওদাগ্রামে শ্বশুর বাড়িতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় গৃহবধূ খুশি ওরফে খুশিলার (২২)। অভিযোগ উঠে, তাকে হত্যা করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন গলায় রশি দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। ২৮ আগস্ট রাতে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের আগ্রাইল গ্রামে সৎ পিতার ছুরিকাঘাতে খুন হন প্রতিবন্ধী সুমি খাতুন (২৬)। ১৩ সেপ্টেম্বর শহরের ডিসি বাংলোর পূর্ব পাশের চারতলা ভবনের একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মাথায় পুরনো টেলিভিশন পড়ে নিহত হন শ্রমিক কুদ্দুস। এ ঘটনায় তার পরিবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ২২ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের শাহ আলম নামে একজন কৃষককে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২১ অক্টোবর সকালে যশোর শহরের মোল্লাপাড়া মালোপাড়ায় ভৈরব নদের পাড়ের একটি ঘাসতে থেকে কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহাগের (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগেরদিন রাতে মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা ডেকে এনে তাকে হত্যা করে। ৬ নভেম্বর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামে দুই ভাইয়ের বিবাদ মেটাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত হন আরেক ভাই কাঠ মিস্ত্রি আকবর আলী (৩৫)।
গত ২৯ নভেম্বর রাতে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পোস্ট অফিস মোড়ে ভাইয়ের হাতে খুন হন এনজিও কর্মী মুক্তা খাতুন (৩৫)। ৯ ডিসেম্বর রাতে মাটি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর মোল্লাপাড়ায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন জনি হোসেন (২৬) নামে এক যুবক। ১৯ ডিসেম্বর রাতে বেজপাড়া তালতলা মোড় বাইলেনের প্রতিপ সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে রমজান নামে এক যুবককে। আর এ বছর যশোরে সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২১ ডিসেম্বর সকালে শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ায়। জমি নিয়ে বিরোধে আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেন প্রতিবেশীরা। অবশ্য এ ঘটনায় ৮ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি।





