স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় বিদায়ী বছরে (২০১৯) খুনসহ লাশ উদ্ধার হয়েছে ৪৭ জনের। এর মধ্যে পরকীয়া, দাম্পত্য কলহ ও নারীঘটিত কারণে খুন হয়েছেন ১২ জন নারী-পুরুষ। উপজেলাগুলোর মধ্যে খুনে শীর্ষে রয়েছে মহেশপুর। এক বছরে সেখানে ১৬ জন নারী-পুরুষ খুন হয়েছেন। মাদকের টাকা না পেয়ে মহেশপুরের নওদা গ্রামে মা মর্জিনা খাতুন ও নানি ছামসুন্নাহারকে খুন করে ইমরান নামে এক মাদকাসক্ত যুবক। সীমান্তে বিএসএফ কতৃক ও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৬ জন নিহত হন বিদায়ী বছরে। এছাড়া ঝিনাইদহ সদরে ১১ জন, কালীগঞ্জে ৬ জন, কোটচাঁদপুরে ১ জন, শৈলকুপায় ৮ জন ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৫ জন খুনসহ লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ধর্ষণজনিত ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৭ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৮/১০ জনের ধর্ষণের অভিযোগ প্রমানিত হয়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন পুলিশ সদস্যসহ নিহত হয়েছেন ৫৭ জন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচে বেশি নিহত হয়েছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়। সদরের বিভিন্ন সড়কে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কালীগঞ্জে ১৫ জন, কোটচাঁদপুরে ট্রেনে কাটা পড়াসহ ৩ জন, শৈলকুপায় ১০ জন, মহেশপুরে ৪ জন ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৩ জন নিহত হন। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, ঝিনাইদহে সব খুনের কু ও মোটিভ উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে ঝিনাইদহে পরকীয়ার কারণে কিছু খুনের ঘটনা ঘটেছে। পিতা-মাতার সাথে সন্তানের সুসম্পর্ক নেই। স্কুল-কলেজে জীবনমুখী নৈতিক শিক্ষা নেই। শিক্ষকদের নৈতিক অধঃপতন ঘটেছে। তারাও ছাত্রীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে অশ্লীল ভিডিও দেখে ছেলে-মেয়েরা বিপথগামী হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তারা ১৮ বছরের আগেই সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন।





