১৭ বছর যুবসমাজকে মেধাশূন্য করে বিপথে পরিচালিত করা হয়েছে : নার্গিস বেগম

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলা তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ এবং বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৃহস্পতিবার বিকেলে কলেজের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, বিগত ১৭ বছরে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এই দেশের ছাত্র এবং যুবসমাজকে মেধাশূন্য করে বিপথে পরিচালিত করা হয়েছে। টিকটক, ফেসবুক, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার করে জাতিকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সমাজে এবং রাষ্ট্র যে অবস্থায় আছে এতে পরিবর্তনের পথে হাটতে হবে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে গেলে এমনই রাষ্ট্র ব্যবস্থা দরকার, যে রাষ্ট্র সকলের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। সর্বোপরি জনবান্ধব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করার মধ্য দিয়ে সমাজ এবং রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম অনাচার দূর করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল পাঠ্যসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, নিজেদের সাহিত্য, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার সাথে যুক্ত রাখতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য, খেলাধূলা এবং সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ। এগুলোর মাধ্যমে জীবনের নতুন দিক উন্মোচন হয়, নিজেকে অনন্যা উচ্চতায় নিয়ে যায়। সবার আগে মানবিক এবং সহানুভূতিশীল মানুষ হতে হবে। শুধু নিজেকে নয় সমাজের সকলকে ভাবতে হবে। আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবার জন্য এখন থেকে নিজেদেরকে যোগ্য করে তুলতে হবে। কারণ ছাত্ররা সমাজের অগ্রসরমান একটি অংশ। তাই কেবল লেখাপড়া নয়, জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানদের প্রতি সব সময় নজর রাখতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজের সন্তানদের মত অন্যের সন্তানের প্রতিও যতœবান হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তা আজিজুর রহমান ও যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ জিয়া হায়দার, শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন ও আসাদুল ইসলাম।
সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কলেজে ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ইবাদত খান।