এটি ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’, সমঝোতা না হলে চূড়ান্ত বিপদের হুমকি ট্রাম্পের

0
ইরানের জন্য এটিই 'শেষ সুযোগ', সমঝোতা না হলে করুণ পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ।। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনিক কার্যালয় হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটি ইরানের সামনে ‘শেষ সুযোগ’।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তেহরানকে শেষবারের মতো এই পথ বেছে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার তথ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্রের বিশেষ অনুরোধেই তিনি ইরানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন। তবে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এমন দাবি উসকে দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।

জবাবে ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বছরের পর বছর ধরে চলা এ সংকটের সমাধান নিয়ে বাস্তবিকই আলোচনা হচ্ছে।”

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে চালানো আকস্মিক হামলা। পরবর্তীতে যুদ্ধ বিরতির চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সাথে আলোচনায় দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে—প্রথমটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ উন্মুক্ত করা এবং দ্বিতীয়টি ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ।

সংকটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ইরান এই প্রণালিতে নিজেদের অবরোধ জোরদার করেছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে। চুক্তি না হওয়া বা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত কোনো পণ্যই দেশটিতে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো সংলাপ না হলেও হরমুজের নৌপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ওমানের সাথে সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন। উভয়ের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখে সমাধান মিললেও এখনই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে ওমান উপকূলসংলগ্ন স্থানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে চায়, যদিও তেহরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও গবেষণামূলক।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে তিনি আপাতত ইরানে বড় ধরনের হামলা স্থগিত রেখেছেন, যা বাস্তবায়িত হলে তা হতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ কোনো সামরিক আঘাত।