হেবা কিংবা ধর্মীয় আইনে হাত দেওয়া হয়নি, সংশোধনী কেবল বাবা-মার সুরক্ষায়: আইনমন্ত্রী

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “এটি নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা এই সংশোধনী এনেছি বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। এখন এটাকে অনেকেই বলছেন ‘হেবা’ আইনের লঙ্ঘন। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, হেবা আইনে হাত দেওয়ার ক্ষমতা এ জগতে কারও নেই।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা যা পরিবর্তন করেছি, তা ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী এনেছি।

সেই সংশোধনীর অধ্যায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হেবা কিংবা অন্য যেকোনো আইনে যেকোনো ধর্মের হস্তান্তর এই সংশোধনীতে বাধাগ্রস্ত হবে না। দান, উইল কিংবা যেকোনো প্রকারে সম্পত্তি হস্তান্তরে এই সংশোধনী বাধা হতে পারে না। এই অংশটুকু বিতর্ককারীরা পড়ছেন না, তারা না পড়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। আমরা বিনয়ের সাথে বলব, আপনারা আইনটি পড়ুন।”

শনিবার যশোরে অনুষ্ঠিত ‘ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্র ঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে’ শীর্ষক চাকরি মেলা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আয়োজনে ‘ক্ষুদ্র ঋণ খাতে কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার পিটিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী চাকরি মেলায় ৩৬টি প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজারের অধিক চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১১৫ জনকে স্পট থেকে চাকরি প্রদান করা হয় এবং প্রধান অতিথি নিজে তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এছাড়া আরও ৩ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সেমিনারে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশের অগণিত বৃদ্ধ বাবা-মা শেষ জীবনে সম্পত্তি সন্তানদের দেন যাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাসটি শান্তিতে নিতে পারেন। সেই কারণে হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। পিতা-মাতা যদি মনে করেন একবারে হেবা করবেন, সেটা তার অধিকার; সেখানে আমরা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াইনি। আমরা ইসলামী, হিন্দু কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় আইনে হাত দিইনি এবং দেওয়ার ক্ষমতাও আমাদের নেই।

আমরা যা করেছি মানুষের কল্যাণের জন্য করেছি। যেমন শিশু, কিশোর ও যুবকদের ভালো-মন্দ দেখছি, তেমনি বার্ধক্যের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্বও আমাদের।”

তিনি জানান, “গোটা বিশ্বের এই সংক্রান্ত আইনগুলো পর্যালোচনা করেছি। সেখানে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে এমন জনকল্যাণ আইন চালু রয়েছে।”

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার আইনি সহায়তা দিচ্ছে। কোনো মানুষ যেন আইনি সহায়তার বাইরে না থাকে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে আপনারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে যাচ্ছেন। আপনারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে পড়বেন যেন কেউ আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তাদের পাশে আছে।

আমাদের দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা যায়। তারই অংশ হিসেবে কয়েকটি কর্মসূচি ছিল, তার মধ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতা কর্মসূচি অন্যতম।

আজকে যারা মাইক্রোক্রেডিটের সুবিধা পাচ্ছেন এটি আগে একরকম ছিল। এটাকে ২০০৬ সালে রেগুলেটরি স্কিমে নিয়ে আসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। চলতি বছরে সরকার একবারে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করবে, যার মাধ্যমে প্রত্যেক কার্ডধারী মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।”

তিনি এনজিওগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, “মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। আপনি যখন এনজিও, তখন আপনি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। আপনি মালিক নন, আপনাকে একটি গভর্নিং বডির অধীনে চলতে হয়। অনেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গভর্নিং বডি করে, এই ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় ফেরাতে হবে।

আপনারা যদি মনে করেন টাকা দেওয়া হয়েছে আপনার আলাদা বাড়ি করার জন্য, এটি কখনোই না। এটি জনগণকে স্বাবলম্বী করার জন্য দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে থাকব, এটি সরকারের অঙ্গীকার।

আমরা বিশ্বাস রাখি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে আমরা দেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হব।”

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তার ও আরআরএফের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস প্রমুখ।