ইউপি ভোটের তারিখে পরিবর্তন আনছে ইসি

0
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করায় সমালোচনার মুখে সেই দিনক্ষণে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন।। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ভোটের তারিখ নির্ধারণে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য উপস্থাপনের ত্রুটি ও অদূরদর্শিতার কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছে কমিশন। এ ঘটনায় সরকার ও ইসির ভেতরে-বাইরে অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় শিগগিরই অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডেকে ইউপি ভোটের ঘোষিত দিনগুলোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইসি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সাত ধাপে ইউপি ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে। সূচি অনুযায়ী—প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু সূচি প্রকাশের পরপরই উঠে আসে বড় ধরনের দুটি সাংঘর্ষিক তথ্য। আগামী ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা নির্ধারিত। অথচ ঠিক একই দিনে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোটের সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ব্যবহার করা হয়, ফলে পরীক্ষা চলাকালীন নির্বাচন আয়োজন প্রায় অসম্ভব।

অন্যদিকে, ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে তৃতীয় ধাপের ভোটের তারিখ। কিন্তু এই দিনটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী, যা সরকারি দল বিএনপির জন্য একটি বিশেষ স্মারক ও পালনীয় দিন। ওইদিন ভোটে সাধারণ ছুটি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততায় বড় ধরণের সূচি বিভ্রাট ঘটার আশঙ্কায় ইসির সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ইস্যুতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের প্রকাশ্যে সমালোচনা ও বক্তব্যে কমিশন ‘বিব্রত’ বোধ করলেও নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিয়েছে।

ইসি সূত্র ও একাধিক নির্বাচন কমিশনার নিশ্চিত করেছেন, পুরো বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সার্বিক প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে ইউপি ভোটের নতুন তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। এরপরই ইসি সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সভা ডেকে সংশোধন এনে ইউপি নির্বাচনের পরিবর্তিত নতুন সময়সূচি ঘোষণা করবে।