হত্যার হুমকির অডিওর সঙ্গে ব্যবসায়ীর ছবি প্রচার, থানায় জিডি

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ সংবলিত একটি মোবাইল ফোনালাপের অডিও প্রচারের সময় ভুলভাবে এক ব্যবসায়ীর ছবি ব্যবহার করার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও সুনামহানির আশঙ্কায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নরেন্দ্রপুরের ব্যবসায়ী মো. সেলিম রেজা।

থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দায়ের করা ওই জিডির নম্বর ৩৮৩। জিডিতে সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, একটি ভিডিওতে উপসহকারী প্রকৌশলীকে জবাই করে হত্যার হুমকির অভিযোগ সংবলিত অডিওর সঙ্গে তার ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। অথচ ভিডিওতে শোনা কণ্ঠস্বর কিংবা উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মো. সেলিম রেজা যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া এলাকার জিরাট গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন, তার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জিডিতে আরও বলা হয়, ভিডিওতে তার ছবির নিচে ‘ঠিকাদারের ছোট ভাই’ পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি কিংবা তার বড় ভাই কেউই ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তাদের কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্সও নেই। তার অভিযোগ, গ্লোবাল টেলিভিশনের নামে প্রচারিত সংবাদে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

সেলিম রেজা জানান, গত ৪ জুন বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ আইনি সুরক্ষার স্বার্থে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্লোবাল টেলিভিশনের যশোর জেলা প্রতিনিধি ওবাইদুল ইসলাম অভি বলেন, “চাঁচড়ার এক ঠিকাদারের ভাইয়ের বক্তব্য প্রচার করা হয়েছিল। তবে ব্যবহৃত ছবিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কি না, তা যাচাই করা হয়নি।” তিনি জানান, ভিডিওটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চাঁচড়ার ওই ঠিকাদারের ভাই সেলিমও জানিয়েছেন, গ্লোবাল টিভির প্রতিনিধি তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং প্রচারিত ছবিটি তারও নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ বা ভিডিও প্রচার ব্যক্তির সুনাম ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।