বেলার আপত্তিতে কক্সবাজারের সড়ক প্রকল্পে স্থগিতাদেশ

0

লোকসমাজ ডেস্ক: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঠিকানা। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে।

তবে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি বাধা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজার শহরকে আধুনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিলে একটি সংস্থা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। এ কারণে উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর ধরে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। নির্মাণকাজ শুরুর আগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসায় তা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে বেলার পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, সমুদ্রসৈকত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণ করলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ অবস্থায় বেলা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ ধরনের আইনি বাধার কারণে কক্সবাজারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে শুধু একতলা ভবন নির্মাণের নির্দেশনাও রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া যায় না। পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি ও পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন

এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম।

এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।