সিটি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা কাটেনি : রিজভী

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক শুক্রবার থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, মানুষ ভীতির মধ্যে আছে, কারণ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন তা আমলে নেয়নি। গতকাল(বৃহস্প্রতিবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে কমিশন আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণায় অংশ নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে। অর্থাৎ প্রধান নির্বাচন কমিশনার চাকুরী রক্ষার্থে আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আরেকটি অভিনব ভোটলুটের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় রিজভী এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই মিছিল হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারো বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রনি, যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা সোহেল আহম্মেদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ, জাসাস নেতা হাজী মো: আব্দুল কাইয়ুম, বিএনপি নেতা জামাল, শওকত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা রাজু, বাগেরহাট জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি কাজী মঞ্জুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। মিছিলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
মিছিল শেষে এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ সে বিষয়ে এখন শুধু দেশের মানুষই নয়, আন্তর্জাতিক আইনী প্রতিষ্ঠানও এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট মতামত দিয়েছে। নাইকো মামলায় দেশনেত্রী বেগম জিয়া যে নির্দোষ সে বিষয়ে ২০১৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি এই রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সালিশি ট্রাইব্যুনাল। সুতরাং দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে যে সকল মামলা দেয়া হয়েছে তা বানোয়াট, হয়রানিমূলক, নির্যাতনমূলক এবং তিলে তিলে তার প্রাণসংহারের জন্য। এই মস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। এই মহা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দিকে দিকে মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে। তিনি বলেন, আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী এবং বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার ও বাড়িতে বাড়িতে হুমকি এবং সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের আক্রমণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। নির্যাতন এখন বীভৎস রুপ ধারণ করলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। হুমকি-ধামকি ও অপহরণের মাধ্যমে প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদেরকে এলাকা ছাড়া করা শুরু হয়েছে। হামলা চালিয়ে আহত করা হচ্ছে। অপহরণ ও গুম করাসহ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদেরকে জোর করে প্রার্থীতা বাতিলে বাধ্য করা হচ্ছে। সার্বিক অবস্থায় এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে আবারো ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের মতোই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রহসনের নির্বাচন করতে চায় বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। রিজভী বলেন, বর্তমান জনবিচ্ছিন্ন সরকার তাদের নিষ্ঠুর একদলীয় শাসনকে চিরস্থায়ী রুপ দিতে নির্বাচনের নামে ভোটের প্রসাধনী মুখে মেখে মূলত, সুষ্ঠু নির্বাচনকেই নিরুদ্দেশ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনে ভোটারদের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় সন্ত্রাসী ও ধারালো অস্ত্রের। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করে মূলত: ভোট সন্ত্রাসকে কাজে লাগানো হয়। এধরনের নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো গন্তব্য নেই।