খুলনায় খেয়াঘাটের ইজারা, আদায় হচ্ছে ফেরি পারাপারের টোল!

কর্তৃপক্ষ বলছে, ফেরিতে পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে খেয়াঘাট ইজারাদারের টাকা আদায়ের কোনো বিধান নেই।

0
খুলনায় খেয়াঘাটের ইজারা

খুলনা ব্যুরো: খুলনা মহানগরীর রেলিগেট (নগরঘাট)-দিঘলিয়া নৌপথে ফেরি পারাপারকারী যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিএর খেয়াঘাট ইজারাদার শেখ আলি আকবর ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ফেরিতে পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে খেয়াঘাট ইজারাদারের টাকা আদায়ের কোনো বিধান নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভৈরব নদীর রেলিগেট-নগরঘাট ফেরি ব্যবহার করে প্রতিদিন খুলনার দিঘলিয়া, তেরখাদা, নড়াইলের কালিয়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, জুট মিল, মৎস্য খামার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন নিয়মিত এ ফেরি ব্যবহার করে।

অভিযোগ রয়েছে, ফেরিঘাটে ওঠার আগেই রাস্তার ওপর চেয়ার ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে ইজারাদারের লোকজন যানবাহন আটকে টাকা আদায় করছে। টাকা না দিলে ফেরিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয় না। একইভাবে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসি আই কোম্পানির ট্রাকচালক মো. ইয়াসিন আলী বলেন, “দিঘলিয়ার পথেরবাজারে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় ফেরিতে ওঠার আগেই ইজারাদারের লোকজন যাওয়া-আসার নামে ১৫০ টাকা আদায় করে। আমরা দূর থেকে আসি, প্রতিবাদ করতেও ভয় পাই।”

শাহ সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাকচালক কিবরিয়া মাতুব্বর বলেন, “ফেরিতে ওঠার রাস্তায় বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া থাকে। টাকা না দিলে ফেরিতে ওঠা যায় না।”

এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, মোটরসাইকেলে দিঘলিয়ায় যাতায়াতের সময় ট্রলার কিংবা ফেরি ব্যবহার করলেও খেয়াঘাট ইজারাদারকে টাকা দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো রশিদও দেওয়া হয় না, ফলে অফিসে ব্যয়ের হিসাব দেখানো সম্ভব হয় না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইজারাদার শেখ আলি আকবরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

খুলনা বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, “খেয়াঘাট ইজারাদার কেবল খেয়া পারাপারের নির্ধারিত ফি আদায় করতে পারবেন। ফেরিতে পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এমনটি হয়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীরুল হক বলেন, “রেলিগেট-নগরঘাট ফেরিতে পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।”