তালায় কাজ না করেই কাবিটা প্রকল্পের বিলের টাকা নেওয়ার অভিযোগ

0
ছবি: সংগৃহীত।

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে কাজ না করেই কাবিটা প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাবিটা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেওয়ানীপাড়া বাজার সংলগ্ন পিচের রাস্তা থেকে আব্দুল ওহাবের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সংস্কারের জন্যে বরাদ্দকৃত দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা তিনি কোনো কাজ না করেই তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মেম্বার তাদের বলেছিলেন, টাকা এখনো আসেনি। এলে কাজ করা হবে। স্থানীয়রা জানান, গত চার-পাঁচ বছরে এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি।

তারা আরও বলেন, সাধারণত কোনো প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর থেকে রাস্তা মেপে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরুর আগের ও নেমপ্লেটসহ পরের ছবি জমা দেওয়ার পরই বিল পাশ হয়। কিন্তু মশিয়ার মেম্বার কাজ না করে কীভাবে বিল তুলে নিলেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিটা প্রকল্পে এ কাজের জন্যে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু মশিয়ার রহমান কোনো কাজ না করে ও রাস্তায় নেমপ্লেট না লাগিয়েই সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

একটি সূত্র জানায়, টিআর-কাবিটা প্রকল্পের প্রতিটি কাজে দশ থেকে ত্রিশ শতাংশ অর্থ পিআইও অফিসকে ঘুষ দিতে হয়। প্রকল্প মাপজোপের সময় দুই হাজার টাকা, পরিদর্শনে এক হাজার টাকা ও ফাইল খরচ হিসেবে দেড় হাজার টাকা।

এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে দুই-তিনজন মেম্বারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগির অভিযোগও আছে পিআইওর বিরুদ্ধে। পিআইও অফিসের চুক্তিভিত্তিক অফিস সহকারী সোহেলের মাধ্যমে এই টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়। দিনভর আদায়ের পর রাতে আঠারো মাইল এলাকার একটি হোটেলে বসে তা ভাগ করা হয়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আগামীকাল কাজ শুরু করব। একদিনের মধ্যে কাজ শেষ করব। আড়াই লাখ টাকার কাজ একদিনে কীভাবে শেষ করবেন -এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি যতদূর জানি কাজ শেষ করা হয়েছে। যদি কাজ না করে থাকে বা অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে আমি নিজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে। পরে কাজ করে দেওয়া হবে। কাজ শেষে পরিদর্শন ও নেমপ্লেটসহ ছবি জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এই প্রকল্পে কেন তা নেওয়া হয়নি-এ প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।