চৌগাছায় আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি পরিবারের

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছায় আতিয়ার রহমান হত্যাকান্ডে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই রাশেদ আলী এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে রাশেদ আলী বলেন, তার ভাই আতিয়ার রহমান চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর বাঁওড়ের পাহারাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২০ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশে বের হন। পরদিন সকাল পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে থানায় অভিযোগ করা হলে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওসমান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

রাশেদ আলীর দাবি, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেড় গোবিন্দপুর বাঁওড়ের ডানেরবিল ক্যানালের কচুরিপানার নিচ থেকে আতিয়ার রহমানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওসমানের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে সুজা ও কবির নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তবে পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের একপর্যায়ে মূল সন্দেহভাজনদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আটক ওসমানের নাম মামলার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু সুজা ও কবিরের নাম রাখা হয়েছে।

রাশেদ আলী জানান, পরে তিনি বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় নয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এজাহারভুক্ত নয় আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাশেদ আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং মামলাটি নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অথবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন।

নিহতের পরিবারের দাবি, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।