শার্শায় ‘মিথ্যা’ মামলায় বিএনপি নেতা মিন্টুসহ ৬ জনের জামিন

0
শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, ছবি: সংগৃহীত।

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা॥ শার্শায় একটি ষড়যন্ত্রমূলক ‘মিথ্যে’ মামলায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ ৬ জন জামিন পেয়েছেন। বুধবার দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শার্শা আমলী আদালত) আদালতের বিচারক আছাদুল ইসলাম উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিনের আদেশ দেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গেট সংলগ্ন হাবিবের চায়ের দোকানের সামনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছুটিতে থাকা পুলিশ সদস্য মামুন হাসান জুয়েলের সাথে টিটোন ও পিন্টু নামের দুই যুবকের কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে চায়ের দোকানদার হাবিব তাৎক্ষণিক সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে অ্যাডভোকেট মিন্টু দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হনও জেলা পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলে উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা করে দেন।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা হলেও ওই দিনই কন্যাদহ গ্রামের রড় শহীদের ভাই আব্দুল বারিক শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডিতে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। জিডি করার ৫ দিন পর শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন ও যশোর ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম অ্যাডভোকেট মিন্টুকে আটক করতে শ্যামলাগাছী গ্রামে অভিযান চালায়।

এ সময় উপস্থিত জনতা পুলিশের কাছে আটকের কারণ ও ওয়ারেন্ট বা মামলার এজাহারের কপি দেখতে চাইলে পুলিশ তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে ফিরে যায়।

এই ঘটনার রেশ ধরে গত ৪ জুন রাতে পুলিশ সদস্য জুয়েলের ভাই ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রয়েল বড় শহীদকে সাথে নিয়ে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ১ নম্বর আসামিসহ মোট ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই ঘটনায় পৃথক মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি বাদীর আইনজীবীর।

বুধবার সকালে মামলার এজাহারভুক্ত দুই সাক্ষী মারুফ হোসেন ও মনির হোসেন নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি এফিডেভিট (হলফনামা) করেন। হলফনামায় তারা উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় ১ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। এমনকি সাক্ষী হিসেবে আমরা নিজেরাও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।

পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের এই হলফনামা ও মামলার অসঙ্গতিগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন। বিচারক দীর্ঘ শুনানি শেষে ঘটনার সত্যতা বিবেচনা করে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ মামলার সব আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়কে ন্যায়ের জয় বলে আখ্যায়িত করেছেন।