যশোরে তিন দিনের ওয়াজ মাহফিলে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ৫ শতাধিক জিডি থানায়

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ ।। যশোরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরান মাহফিলে এসে মোবাইল, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস হারানো শ’ শ’ ব্যক্তি থানায় জিডি করছেন। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৫শ’র বেশি জিডি এন্ট্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর কোতয়ালি থানার ডিউটি অফিসার। সবচেয়ে বেশি জিনিস খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে শেষ দিনে শুক্রবার মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলকে ঘিরে। এদিন মাহফিলে বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক লাখ মানুষ আসেন। সভাস্থল থেকে ২ নারী ছিনতাইকারী আটক হলেও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে অপর ৪ নারীর।
যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার সাংবাদিক মুর্শিদুল আজিম হিরু জানান, মাহফিলের শেষ দিনে গত শুক্রবার ড. মিজানুর রহমান আজহারী প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকায় তার বক্তব্য শুনতে গিয়েছেন। এ সময় তার জামার পকেটে থাকা একটি দামী মোবাইল ফোন সেট কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি শনিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ডিউটি অফিসার এসআই শারমিন আক্তার শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে জানান, মোবাইল ফোন সেট চুরির ঘটনায় ৩ দিনে প্রায় ৫ শতাধিক সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।
তিনি জানান, মাহফিলে মোবাইল ফোন সেট চুরির ঘটনায় শুধুমাত্র শনিবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে ১৩৫টি।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শুধু শ শ মোবাইল ফোন সেট চুরি নয়, শনিবার অসংখ্য নারীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই হয়েছে। শেষ দিনে মাহফিলে দুই জনপ্রিয় বক্তা যথাক্রমে ড. মিজানুর রহমার আজহারী ও শায়খ আহমাদুল¬াহ’র আলোচনা শুনতে এ দিন লাখ লাখ নারী-পুরুষ সভাস্থলে যান। সেখানে ভীড়ের সুযোগে নারী ছিনতাইকারীরা নারী শ্রোতাদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করে নেয়।
শনিবার কোতয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ঘটনায় ৫ নারী কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরা হলেন, যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ার মাছ বাজার রোডের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মোছা. নাহারুন নাহার, সদর উপজেলার দক্ষিণ নুরপুরের আবুল কাশেম শেখের স্ত্রী আলেয়া বেগম, বাঘারপাড়া উপজেলার ঠাকুরকাঠি গ্রামের খলিল রহমানের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট এলাকার মকবুল হোসেনের স্ত্রী শেফালী বেগম ও চৌগাছা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নজরুল ইসলামের স্ত্রী স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রনজু আরা। এর মধ্যে মোছা. নাহারুন নাহারের অভিযোগটি ইতোমধ্যে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে মাহফিলের ভীড়ের মধ্যে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ঘটনায় সভাস্থল থেকে ৬ নারীকে হেফাজতে নিয়েছিলো পুলিশ। শনিবার যাচাই বাছাই শেষে ৪ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকী দুই জনকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মোছা. নাহারুন নাহারের দায়ের করা মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এরা হলেন, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাগাসোরা গ্রামের সজীব হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৪৫) ও ব্রাম্মণনবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের মো. দুলালের মেয়ে মিনারা আক্তার মীম (১৯)।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, মাহফিলের ভীড়ের স্বর্ণের চেইন খোয়ানোর ঘটনায় কয়েকজন নারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি তারা রেকর্ড করেছেন। অন্য অভিযোগগুলি তার গুরুত্বের সাথে তদন্ত করবেন