মোটরসাইকেলে ‘অচেতন’ তরুণীর ছবি ভাইরাল, টঙ্গী থানায় হাজির হয়ে জানালেন আসল ঘটনা

0
আবদুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মোটরসাইকেলে 'অচেতন' তরুণীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় এসে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন ওই তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যাকেন্দ্রিক।। ছবি: সংগৃহীত

আবদুল্লাহপুর–টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই আরোহীদের পরিচয় শনাক্ত করার পর শনিবার দুপুরে তরুণী নিজে টঙ্গী পশ্চিম থানায় হাজির হয়ে ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি ওমরাহ শেষে বিমানবন্দর থেকে বগুড়া ফেরার পথে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পার হয়ে টঙ্গী পর্যন্ত ওই মোটরসাইকেলটিকে অনুসরণ করেন। তিনি দেখতে পান, মাঝখানে বসা এক তরুণীর পা ঝুলছিল এবং পেছনে থাকা অপর এক যুবক তরুণীটিকে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে জড়ে ধরে রেখেছিলেন। ঘটনাটি দেখে তাঁর মনে সন্দেহ হয় তরুণীটি ঘুমন্ত বা মৃত হতে পারেন। এরপর তিনি প্রাইভেট কার থেকে তিনটি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ কল দেন।

ছবি ভাইরাল হওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। সনাক্ত হওয়ার পর শনিবার বেলা দেড়টার দিকে তরুণীকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশের মুখোমুখি হয়ে ও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।

সাংবাদিকদের তরুণী জানান, পারিবারিক চাপ সামলাতে না পেরে গত বুধবার রাতে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে উত্তরার জসীমউদ্‌দীনের একটি বারে যান। সেখানে একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্বজনরা তাঁকে নিতে আসেন।

তরুণী বলেন, “আমি গাড়ি (মোটরসাইকেল) ওঠা পর্যন্ত আমার জ্ঞান ছিল, এরপর আমার জ্ঞান ছিল না।” নিজের বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে থানায় আসার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমার সাবেক স্বামী আমি মারা গেছি, এমন তথ্য ছড়িয়েছে। এ জন্য আমি থানায় এসেছি আপনাদের বলতে, আমি মরিনি।”

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উত্তরার জসীমউদ্‌দীন এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে টঙ্গীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া হলেও তাঁরা পরবর্তীতে টঙ্গীতে না গিয়ে মিরপুরে এক বান্ধবীর বাসায় যান। ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে থানায় তরুণীর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁকে টঙ্গীতে থাকা তাঁর বোনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে এই ঘটনাটিতে বড় ধরনের কোনো অপরাধের আলামত পাওয়া যায়নি। এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যাকেন্দ্রিক একটি ঘটনা ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।