মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণ চুরি, সিসিটিভি দেখে টাইলস মিস্ত্রি গ্রেপ্তার

0
ছবি: সংগৃহীত।

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে মাটি খুঁড়ে প্রায় পৌনে ১২ ভরি সোনা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক টাইলস মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া অলঙ্কারের একটি বড় অংশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম আলাল খান। ২২ বছর বয়সী এই তরুণ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া সোনা উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাংনী উপজেলার মুন্দা গ্রামের বাসিন্দা শাহীন দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে থাকেন। বাড়িতে তার বৃদ্ধা মা নার্গিস বানু এবং দুই বোন বসবাস করেন। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নার্গিস বানু নিজের এবং মেয়েদের নেকলেস, চুড়ি, কানের দুলসহ মোট ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার একটি প্লাস্টিকের কৌটায় ভরে ঘরের সিঁড়ির নিচে মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

সম্প্রতি ওই বাড়িতে টাইলস বসানোর জন্য পাঁচজন মিস্ত্রি কাজ শুরু করেন। গত রোববার বিকেলে কাজ শেষে মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর নার্গিস বানু মাটি খুঁড়ে দেখেন যে গয়নার কৌটাটি সেখানে নেই। পরে কুয়েত থেকে তার ছেলে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন, কাজ করার সময় এক মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে কৌটাটি বের করে অন্য একজনের হাতে তুলে দিচ্ছেন। স্থানীয়রা ফুটেজ দেখে কুষ্টিয়ার মোমিন খান ও আলাল খানকে শনাক্ত করেন।

এই ঘটনায় নার্গিস বানু বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি চুরির মামলা করেন। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোর্শেদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার ও সোনার বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি মোমিন খানকে গ্রেপ্তার এবং বাকি সোনা উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলছে।