মেয়েকে হত্যা করে ভৈরব নদে ফেলে দেওয়ার মামলায় বাবার যাবজ্জীবন

0
মেয়েকে হত্যা করে ভৈরব নদে ফেলে দেওয়ার মামলায় বাবার যাবজ্জীবন

লোকসমাজ ডেস্ক : মেহেরপুরে মেয়েকে হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভৈরব নদে ফেলে দেওয়ার মামলায় বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত বজলুর রহমান মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে। নিহত ববিতা খাতুন তার মেঝো মেয়ে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ মার্চ রাতে মেহেরপুরের ভৈরব নদ থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় ববিতা খাতুনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় সদর থানার এসআই মকবুল হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তদন্তের একপর্যায়ে ববিতার বাবা বজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দিতে বজলুর রহমান দাবি করেন, মেয়ের বেপরোয়া চলাফেরার কারণে তাকে হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভৈরব নদে ফেলে দেন তিনি।

ঘটনার পাঁচদিন পর ভৈরব নদ থেকে ববিতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাঈদুর রাজ্জাক বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত বজলুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার একরামুল হক হিরা বলেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।