ভবদহ দিবসে অভয়নগরে পদযাত্রা ও সমাবেশ

২০০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি স্থায়ী সমাধানের দাবি

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর)॥ অতি বৃষ্টিতে আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ভবদহ অঞ্চল। পানির নিচে রয়েছে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার অন্তত ২০০ গ্রাম। তিন মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

দীর্ঘদিনের এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোমবার ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষে পদযাত্রা ও সমাবেশ করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। বিকেলে অভয়নগর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত যায়। পদযাত্রায় এলাকার পাঁচ শতাধিক নারী- পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

পদযাত্রা শেষে আলমডাঙ্গা খালের পাশে সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আব্দুল হামিদ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, উপদেষ্টা তসলিমুর রহমান, সদস্য শিবপদ মন্ডল প্রমুখ।

সমাবেশে ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ভবদহ সমস্যা নিরসনে আগামী মাঘি পূর্ণিমার আগেই কার্যকর ‘টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট’ (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালু করতে হবে। একই সঙ্গে আমডাঙ্গা খাল দ্রুত পুনঃখনন ও প্রশস্ত করার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদী সংস্কারে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও টিআরএম চালু না হলে সেই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী সুফল দেবে না বলে তিনি জানান।

সমাবেশে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবদহ পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও এক মাসেও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। নেতৃবৃন্দ নদী-খাল থেকে কচুরিপনা, নেটপাটা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ, ভবদহের ২১-ভেন্ট স্লুইসগেটের প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও টেকা নদীর অবশিষ্ট অংশ দ্রুত খননসহ বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান।