বাহাদুরপুরে আলী হোসেন হত্যা মামলা নথিভুক্ত, আসামি নিয়ে ধূম্রজাল

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর পৌরসভার আলোচিত এক কাউন্সিলরের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত একাধিক মামলার আসামি আলী হোসেন হত্যার ঘটনায় নিহতের মা মঞ্জুয়ারা বেগমের দেওয়া এজাহার গত রোববার বিকেলে কোতয়ালি থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত (রেকর্ড) করা হয়েছে। গত শনিবার তিনি থানায় এজাহার দাখিল করেছিলেন। মামলায় ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের পিতা আব্দুর রহমানের দাবি, মামলায় কাদের আসামি করা হয়েছে তা তারা জানেন না। তরিকুল ইসলাম মেম্বারই সবকিছু জানেন। তবে তরিকুল ইসলাম মেম্বারের দাবি, তিনি মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাদের এই পরষ্পরবিরোধী বক্তব্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়ার মবজেল হোসেনের ছেলে নবাব হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম, পাঁচবাড়িয়া গ্রামের শফিয়ার রহমানের ছেলে ইকরামুল, বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়ার আলতাফ হোসেনের ছেলে টোকন, ভাতুড়িয়া নারায়ণপুর গ্রামের নুর ইসলাম মহুরি ছেলে ইসরাজুল ও ঘুরুলিয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে বর্তমানে কিসমত নওয়াপাড়া স-মিলের সামনের বাসিন্দা এনামুল শেখ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন দিবাগত রাতে বাহাদুরপুর তেঁতুলতলার চার রাস্তার মোড় এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন একাধিক মামলার আসামি আলী হোসেন। তিনি একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে।
হত্যাকান্ডের পরদিন দুপুরে নিহত আলী হোসেনের সাথে মোটরসাইকেলে থাকা একই এলাকার ওলিয়ার রহমানের ছেলে সোহান দৈনিক লোকসমাজকে জানিয়েছিলেন, একটি মোটরসাইকেলে করে এসে নবাব মেম্বার গুলি চালিয়ে আলী হোসেনকে হত্যা করেছেন। ওই মোটরসাইকেলে নবাব ছাড়াও আরও একজন ছিলেন, যাকে তিনি চিনতে পারেননি।
কিন্তু থানায় নিহতের মা মঞ্জুয়ারা বেগম যে মামলা করেছেন তাতে নবাব ছাড়াও আরও ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে আসামি হিসেবে। এ বিষয়ে জানতে সোমবার রাতে মামলার এজাহারে বাদী মঞ্জুয়ারা বেগমের দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলে রিসিভ করেন নিহতের পিতা আব্দুর রহমান। আসামি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কাদের আসামি করা হয়েছে তা তারা জানেন না। তরিকুল মেম্বারই সবকিছু জানেন।
যোগাযোগ করা হলে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি মামলায় কাদের আসামি করা হয়েছে এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আব্দুর রহমানের জামাই ওই মামলাটি করিয়েছেন।