নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান

কৃষি সাংবাদিক সমিতি-সিনজেনটা গোল টেবিল বৈঠক

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কৃষিজ উপকরনে ভেজাল ও নকল উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। যা কৃষক থেকে শুরু করে খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এটিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে এ সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালাগুলোকে যুগোপযোগি করতে হবে। সরকারী ও বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আলাদা সেল গঠন করতে হবে। নকল ও ভেজাল কৃষিজ উপকরন পাওয়া গেলেই সমন্বিত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বৃহস্পতিবার যশোর জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘নকল ও ভেজালকে না’ শীর্ষক রাউন্ডটেবিলে এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) ও সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড যৌথভাবে এই রাউন্ডটেবিলের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। তিনি বলেন, ”নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে বর্তমান সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। কৃষিতে নকল ও ভেজাল সার ও কীটনাশক ফসলের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেয়। এতে দেশের কৃষকরা যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। সরকার দেশের কৃষকের জন্য কাজ করছে, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে।”

গোল টেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ। তিনি বলেন,”জাল এপি নম্বর ব্যবহার, নিবন্ধনবিহীন কৃষি উপকরণ বিক্রি এবং অনলাইন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে কৃষি উপকরণ বাজারজাতের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি কৃষক ও বৈধ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকারি সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।”

স্বাগত বক্তব্যে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স এন্ড সাসটেইনিবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের সমস্যা শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ সমস্যাকে সার্বিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সিনজেনটা বাংলাদেশ সারা দেশে স্টুয়ার্ডশীপ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ শনাক্তকরণ, নিরাপদ ব্যবহার ও সঠিক প্রয়োগ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পশিাপাশি, নকল পন্য ব্যাবহার করে কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেবিষয়ে সরকারের সঙ্গে যৌথ তদারকি নিশ্চিত করছে।

এসময়, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বালাইনাশক আইন, ২০১৮ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

যশোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মুন্না বিশ্বাস বলেন, ’নকল ভেজাল প্রতিরোধে যৌথ তদারকি দরকার। নিরাপদ কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একটি সুশৃংখল ও নিরাপদ কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল যেন বজায় থাকে সে ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা সব সময় অগ্রগণ্য হবে।’

যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সম্পাদক এবং দৈনিক সুবর্ণভূমির সম্পাদক ও প্রকাশক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের আমদানি ও বিপণন বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

এছাড়াও যশোর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কিশোর কুমার সাহা বলেন, কৃষিতে ভেজাল ও নকলের কারণে কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভেজাল পণ্য চেনার উপায় কৃষকদের জানিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দরকার। এজন্য কৃষি বিপনন অধিদপ্তর ১২ দিনের একটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সচেতন হচ্ছেন।“

রাউন্ডটেবিলে কৃষক, খুচরা বিক্রেতা, সাংবাদিক এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন নকল ও ভেজালমুক্ত কৃষি উপকরণের বাজার নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এবং যশোর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস. এম. তৌহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় রাউন্ডটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিকদার খালিদ, সাইফুল ইসলাম সজল, আবদুল কাদের প্রমুখ।