রাজউকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ, নকশা অনুমোদনে কমবে ভোগান্তি

0

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও জনভোগান্তি কমাতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকেই নকশা অনুমোদনের আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বর্তমানে রাজউকের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীদের ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হয়। এতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে। এসব সমস্যা দূর করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রী ও রাজউক চেয়ারম্যান সম্মতি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নকশা অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে এক জায়গা থেকেই আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাইয়ের পাশাপাশি কোনো অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অযথা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো বা ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ কমিয়ে আনতে কমিটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

আবাসন খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে শেখ মজিবুর রহমান বলেন, নগর পরিকল্পনা ও বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ল্যান্ড ডেভেলপার প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যার মুখে পড়ছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্যাপ বিধিমালা ও নগর গৃহায়ন বিধিমালা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। গৃহায়ন বিধিমালা অনুমোদিত না হওয়ায় আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বৈঠকের আগেই বিধিমালা অনুমোদনের চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত ভবনগুলোকে রাজউকের বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট জরিমানা বা শাস্তির আওতায় এনে বৈধ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

শেখ মজিবুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করাই কমিটির অন্যতম লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে কমিটির সদস্যরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও কমিটির সঙ্গে একমত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।