তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল কি গোল্ডেন বুটে যোগ হয়? উত্তর ও সমীকরণ জেনে নিন

0
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ৮টি গোল ও বেশি অ্যাসিস্ট নিয়ে সবার সামনে লিওনেল মেসি।। ছবি: সংগৃহীত
সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়ার পর অনেক দল বা কোচের কাছেই বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি পরম অনীহার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এবারের আসরেও স্পেনের কাছে হেরে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
ম্যাচটি নিয়ে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল মন্তব্য করেছেন, তাঁদের কিংবা ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচটি খেলতে চায় না, সবাই শুধু ফাইনালেই খেলতে চায়। তবে দলগুলোর বা দর্শকদের আগ্রহ কম থাকলেও এই ম্যাচটি অন্তত চারজন খেলোয়াড়ের চোখে মোটেও গুরুত্বহীন নয়। কারণ, নিয়মানুযায়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও টুর্নামেন্টের মোট গোলসংখ্যায় যোগ হয় এবং তা গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সরাসরি হিসাব করা হয়।

চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে একটি অ্যাসিস্ট বেশি থাকায় বর্তমানে টেবিলের শীর্ষে থেকে এগিয়ে আছেন মেসি।

নরওয়ের আর্লিং হলান্ড ৭টি গোল করলেও কোয়ার্টার ফাইনালেই তাঁর দল বিদায় নেওয়ায় গোল বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ তাঁর নেই। এমন সমীকরণে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোলসংখ্যা ৬টি করে এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের গোল ৫টি।
ফলে শনিবারের ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ম্যাচটি কেবল তৃতীয় স্থান নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং কেইন, বেলিংহাম কিংবা দেম্বেলেদের জন্য গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণের এক বড় সুযোগ।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি গোল্ডেন বুট বা সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর আগে মোট সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী তারকা এই ম্যাচে গোল পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোরে শিলাচি (১৯৯০) ও ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮)—এই চারজনই মূলত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করার সুবাদেই শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট নিজেদের করে নিতে পেরেছিলেন। এছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) ও ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও (১৯৫৮) এই ম্যাচে গোল করেছিলেন, যদিও ওই গোল ছাড়াও তাঁরা আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিততেন।

ফিফার নিয়মানুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা সমান হলে গোল্ডেন বুট নির্ধারণে প্রথমে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। সেখানেও সমতা থাকলে দেখা হয় কে মাঠে সবচেয়ে কম সময় বা কম মিনিট খেলেছেন। অর্থাৎ, গোল্ডেন বুটের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণে ফিফার ক্রমতালিকা হলো—সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এবং সবচেয়ে কম খেলার সময়।

এই নিয়মের মারপ্যাঁচে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের সামনে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ থাকছে। আর এই ম্যাচের পরই মূলত ফাইনালে নামার আগে লিওনেল মেসি জানতে পারবেন গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করতে ফাইনালে তাঁর ঠিক কী করা প্রয়োজন।