‘হ্যালো, ভাঙাচোরা রাস্তা, লাইট, ড্রেন ও ডাস্টবিনবিহীন সিটি কলেজপাড়াবাসী বলছি’

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘হ্যালো, আমি ভাঙাচোরা রাস্তা, লাইট, ড্রেন ও ডাস্টবিনবিহীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি কলেজপাড়াবাসী বলছি’-রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঝুলছে এমন ব্যানার। ব্যানারের ভাষায় ফুটে উঠেছে দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগ ও ক্ষোভ। পৌরকর ও ভ্যাট পরিশোধ এবং ভোট দেওয়ার পরও কেন কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা মিলছে না-এ প্রশ্ন তুলেছেন যশোর শহরের সিটি কলেজপাড়ার বাসিন্দারা।

শুক্রবার সকালে সিটি কলেজপাড়ার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে ব্যতিক্রমী এসব ব্যানার টাঙানো হয়েছে। কোথাও ভাঙাচোরা সড়ক, কোথাও উঁচুনিচু ইটের সলিং। বৃষ্টির পর সড়কে পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারী ও যানবাহনকে। তাদের দাবি, এসব সড়কে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সড়কের পাশাপাশি সিটি কলেজপাড়ার বাসিন্দাদের আরেকটি বড় অভিযোগ পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা নিয়ে। তাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর এলাকার বিভিন্ন সড়ক অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে রাতে পথচারীদের চলাচলে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।

পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ আরও বাড়ে। পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হওয়ায় সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় বর্জ্য ফেলার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, নাগরিক এসব সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু বারবার অবহিত করার পরও সমস্যাগুলোর কাঙ্ক্ষিত সমাধান হয়নি। ফলে এবার সরাসরি ব্যানার টাঙিয়ে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন তারা বলে জানান।

ব্যানারগুলোতে আরও লেখা হয়েছে, ‘আমরা পৌরকর, ভ্যাট সবই পরিশোধ করি। তাহলে আমরা কেন পৌরসেবা থেকে বঞ্চিত? আমরা ভোটও প্রদান করি, তাহলে কেন আমরা অবহেলিত?’ নিচে প্রচারকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সিটি কলেজপাড়ার ভুক্তভোগী জনগণ’।

এলাকাবাসীর ভাষায়, এই ব্যানার কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং বছরের পর বছর জমে থাকা নাগরিক দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। তাঁদের প্রত্যাশা, ব্যানারে লেখা প্রশ্নগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়বে এবং দ্রুত সড়ক, সড়কবাতি, পানি নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।