ব্রাজিলের জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারবে এই মরক্কো

0
ইউরোপের প্রতিভা আর মরক্কান আবেগের মেলবন্ধন: হ্যামস্ট্রিং ও চোটের ধাক্কা সামলে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে উয়াহবির দল ।। ছবি: সংগৃহীত

২০২২ সালের ডিসেম্বরের রাতে কাতারের মাঠে পর্তুগালকে হারিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। সেই রাতে মারাকেশের জেমা এল-ফনা চত্বর থেকে কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত, ফেজ — পুরো দেশ জেগে ছিল উৎসবে। চার বছর পর সেই মরক্কো এবার মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিলের — আর এই ম্যাচটি এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি হতে চলেছে।

কাতারে মরক্কোর সেমিফাইনাল যাত্রা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেন এবং কোয়ার্টারে পর্তুগালকে হারানোর পর বিশ্ব বুঝেছিল — এই দলটি সত্যিকারের শক্তি। গত চার বছরে সেই শক্তি আরও পোক্ত হয়েছে।

এই বছর আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) মরক্কো শিরোপা জেতে এক বিতর্কিত পথে। রাবাতের প্রিন্স মুলায় আবদেহাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে রিভিউতে গোল বাতিলের প্রতিবাদে সেনেগাল একপর্যায়ে মাঠ ছেড়ে যায়। পরে ফিরে এসে তারা মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপাও জেতে। কিন্তু মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই মাস পর আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সেনেগালকে শিরোপাবঞ্চিত করে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করে। ৫০ বছর পর আফকন শিরোপা পেলেও সেটি যেভাবে এসেছে, তা মরক্কো নিজেও চায়নি বলে মনে করেন অনেকে।

বিশ্বকাপে অবশ্য এমন বিতর্ক নয়, মাঠেই সব মীমাংসা করতে চাইবে তারা। দলটিও সে জন্য প্রস্তুত। আশরাফ হাকিমি মাত্রই পিএসজির হয়ে টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের দিয়াজ আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। গোলরক্ষক ইয়াসিন বনু আগের মতোই ভরসার প্রতীক। তবে রক্ষণের মূল ভরসা নাইফ আগের্দ এবং আক্রমণে আবদে এজ্জালজুলি চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন — নতুন কোচ মোহাম্মদ উয়াহবির জন্য এটি বড় ধাক্কা।

মরক্কান ফুটবলের উত্থানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ। হাকিমি, দিয়াজ, আমরাবাতের মতো ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের একই পতাকার নিচে আনার কাজ মরক্কো শুরু করেছিল অনেক আগেই। তার সুফল মিলছে এখন। গত বছর ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মরক্কো। সেই দলের কোচ উয়াহবিই এখন জাতীয় দলের দায়িত্বে, বিদায় নিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপের কোচ ওয়ালিদ রেগুরাই।

ফুটবলের বাইরেও মরক্কো এখন আফ্রিকান ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু। আফ্রিকায় ফিফার সদর দপ্তর এখন মরক্কোতে। পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে মিলে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে দেশটি। কাসাব্লাঙ্কার কাছে বেনস্লিমানে নির্মিত হচ্ছে ১ লাখ ১৫ হাজার আসনের স্টেডিয়াম, যেখানে ফাইনাল হওয়ার কথা। রাবাত, ফেজ, তাঞ্জিয়ার, মারাকেশ ও আগাদিরের স্টেডিয়াম সংস্কার এবং রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চলছে।

তবে এসবের বাইরে মরক্কোকে সবাই মনে রাখে কাতারের সেই আনন্দদায়ী ফুটবলের জন্য। আর আনন্দদায়ী ফুটবলের প্রতীক ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই পুনরাবৃত্তি করতে চাইবে তারা — মারাকেশ, কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত হয়তো আবারও রাত জাগবে সেই প্রত্যাশায়।