যশোরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ৯ মাসে আক্রান্ত ৯১৮

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর যশোরে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যশোর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সময়োপযোগী নানামুখী পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার ফলে জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ এবার তুলনামূলক অনেক কম। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত রাখতে তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চলতি বছরের গত ৯ মাসে জেলাজুড়ে ৯১৮ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

ডেঙ্গু সংক্রমণ এড়াতে ও বিস্তার রোধে যশোর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও যশোর মেডিকেল কলেজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও আলোচনা সভা। এতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এছাড়া যশোর সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে সচেতনতা সভা পরিচালনা করা হচ্ছে। পিছিয়ে নেই উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোও; জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তৃণমূল পর্যায়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে গ্রামগঞ্জের মানুষও এখন এডিস মশার বিস্তার রোধে যথেষ্ট সচেতন।

এত সব তৎপরতার পরও নতুন করে কিছু রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) জেলায় ২৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৮ জনে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মোট ৯১৮ জন আক্রান্তের মধ্যে চিকিৎসাসেবা শেষে ৮২৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বাকিরা জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যশোর সদর ও অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অভয়নগরে ডেঙ্গুর প্রভাব কিছুটা বেশি। চলতি বছর এ উপজেলায় সর্বোচ্চ ৪৬৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া যশোর সদর উপজেলায় ১৪৫ জন, কেশবপুর উপজেলায় ১০৮ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৬০ জন, শার্শা উপজেলায় ৫৭ জন, মনিরামপুর উপজেলায় ৩৮ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৩০ জন এবং চৌগাছা উপজেলায় ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে বাসাবাড়ির আঙিনা, প্লাস্টিকের পাত্র, টব, টায়ার কিংবা চৌবাচ্চায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। লার্ভা থেকে জন্ম নেওয়া এসব মশার কামড়েই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই জ্বর কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে শহরাঞ্চলে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার অনেকটাই কম, তবে গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেশি। বিশেষ করে অভয়নগর উপজেলায় রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।