ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় উঠে যাওয়া সড়ক পরিদর্শন, ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ, লোকসমাজ : নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিচ উঠে যাওয়ায় আলোচনায় আসা ঝিনাইদহ পৌরসভার একটি সড়ক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেন।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধুপতিরাম স্কুল থেকে ভড়ুয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন রাশেদ খান। কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থের অপচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সড়কটি পুনর্নির্মাণ করে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও ঝিনাইদহ পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে (প্রাক্কলিত ব্যয় ৬০ লাখ টাকা) এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে অনিক এন্টারপ্রাইজ।

গত ১ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার একদিন পর থেকেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে যেতে শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হলেও কাজে নিম্নমানের ইট, বালি ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ২৫ সেন্টিমিটার পুরুত্বের পরিবর্তে কম পুরুত্বে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

পরিদর্শনের সময় রাশেদ খান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে এলাকাবাসী তা স্বাগত জানান। তারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় এনে দ্রুত টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।

সাইট পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান সড়কটি পরিদর্শন করে ঠিকাদার এবং কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।