ঝিনাইদহে সড়কে আতংক নসিমন নয় মাসে দুর্ঘটনায় নিহত ৯৯

0

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ ॥ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের সড়ক ও মহাসড়ক। প্রতিনিয়ত মানুষ মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কগুলোতে অবৈধ যানবাহন চলাচলের ফলে এক অনিশ্চিত যাত্রার বলি হচ্ছে মানুষ। এক্ষেত্রে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের সচেতনমূলক সভা সেমিনার কোনো কাজেই আসছে না।
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯৯ জন। এরমধ্যে বেশির ভাগই মারা গেছেন অবৈধ যানবাহন দুর্ঘটনায়। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকার পরও ঝিনাইদহের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে পারেনি হাইওয়ে পুলিশ। বরং অভিযোগ রয়েছে, মালিকরা মাসোহারা দিয়ে রাস্তায় এই অবৈধ যানবাহন চালাচ্ছেন।
পুলিশ ও পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় গত ৯ মাসে ২৩ জন, হরিণাকু-ুু উপজেলায় ৩ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৫ জন, কোটচাঁদপুরে ১৫ জন, মহেশপুরে ১৩ জন, শৈলকুপায় ১৫ জন ও কোটচাঁদপুরে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সবচে বেশি ২৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে কোটচাঁদপুরের কাশিপুর নামক স্থানে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার কয়ারগাছি স্থানে আব্দুর রাকিব ও শাকিল, কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের সামনে স্বামী ছাবদার হোসেন ও স্ত্রী পারভিনা খাতুন, সদর উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামে ইমন ও আজিম, শৈলকুপার গাড়াগঞ্জে খোকন ও মহাদেব কুমার, মহেশপুরের বৈরবায় ইমরান ও নাজিবুর, সদর উপজেলার আটলিয়া গ্রামে রিংকী খাতুন ও সাজেদুল ইসলাম, কালীগঞ্জের পিরোজপুর বটতলায় আবুল কালাম, শরীফা খাতুন ও অরো দাস এবং একই উপজেলার বেজপাড়া নামক স্থানে উজ্জল শেখ ও আমানুর রহমান নিহত হন।
সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকৃত থ্রি-হুইলার, আলমসাধু, ভটভটি, নছিমন ও করিমন চালকরা অভিযোগ করেন, তারা মাসিক টাকা দিয়ে সড়কে চলাচল করেন। এই টাকা মালিক পক্ষ দিয়ে থাকেন। শাহিন ও টোকন নামে দুই ইজিবাইক চালক অভিযোগ করেন, রাস্তায় তারা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের লোকজনকে টাকা দিয়ে থাকেন। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ হাইওয়ে পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচলের বিষয়ে শুধু ঝিনাইদহে বন্ধ হলে হবে না। সারা দেশেই বন্ধ করতে হবে। এ জন্য সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তারপরও আমরা সড়কগুলো অবৈধ যানমুক্ত করতে কাজ করছি। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে সড়কে গত ৯ মাসে ১৫/২০ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সারা জেলায় গ্রামীণ সড়কের দুর্ঘটনার হিসাব আমাদের কাছে নেই। ঝিনাইদহ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিআরটিএ সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তার দপ্তর প্রতি মাসেই চালকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এছাড়া তারা অবৈধ যানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন।