ঝিনাইদহে ধলতার নামে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রী

0
ছবি: সংগৃহীত।

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা ॥ ধলতার নামে ঝিনাইদহের হাট-বাজারে যেসব ব্যাপারী, ফড়িয়া ও মহাজন কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পণ্য (৪২ কেজিতে মণ) আদায় করছে, তাদের ঠিকানা হবে সোজা কারাগার। ধলতার এই অবৈধ প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার দিনব্যাপী ও বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ।

আইনমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমাজে হয় খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। মানুষের কাছে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

আইন সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, জুলাই সনদের আলোকেই সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। আমরা সেগুলোর প্রায় সব সংস্কারই গ্রহণ করেছি। বাকিগুলো পর্যালোচনার জন্যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঝিনাইদহের হাটে-বাজারে ধলতার নামে বিশেষ করে সবজি চাষিদের কাছ থেকে প্রতি মণে ৪ কেজি করে বেশি পণ্য জোর করে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ১০ মণ সবজি বিক্রি করে কৃষক দাম পেতেন ৯ মণের। সবজি ছাড়াও মাছ, পাট ও ধানেও এ সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল।

জেলা প্রশাসন এতদিন নিশ্চুপ থাকলেও আইনমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পরপরই শৈলকুপাসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।