জমি কিনতে না পেরে ধানের ওপর আক্রোশ!

0

জয়দেব চক্রবর্ত্তী ,কেশবপুর (যশোর)॥ বর্গা চাষির জমি কেনার ইচ্ছা ছিল। জমির মালিক সে জমি বিক্রি না করে নিজেই এবার ধান চাষ করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত সাবেক ওই বর্গা চাষি। তাই ধান পাকার আগেই সাড়ে ১৮ শতক জমিতে আগাছা নাশক ¯েপ্র করে সব ধান পুড়িয়ে দিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে যশোরের কেশবপুরের কড়িয়াখালি গ্রামে। এ ঘটনায় ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন জমির মূল মালিক ইসহাক আলী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামের মৃত বজর আলীর ছেলে ইসহাক আলীর কেশবপুরের কড়িয়াখালি গ্রামে পৈত্রিক সাড়ে ২৮ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে বর্গা চাষ করতেন কোমরপোল গ্রামের মৃত মোজের আলী খার ছেলে মোবারেক আলী খা। মেবারেক খা ওই জমি কেনার জন্যে ্ ইসহাক আলীর কাছে প্রস্তাব দেয়। এসব কারণে, চলতি বোরো মৌসুমে জমির মালিক ইসহাক আলী ওই জমি মোবারেক আলী খার কাছে বর্গ না দিয়ে নিজেই ব্রি-ধান- ৬৩ জাতের ধান রোপণ করেন। ধান পাকতে মাত্র কয়েকদিন রয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল রাতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বর্গা চাষি মোবারেক আলী খা ইসহাক আলীর পাকা ধান ক্ষেতে আগাছানাশক স্প্রে করে দেয়। এতে দুই দিনেই ক্ষেতের সমস্ত ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষক ইসহাক আলী অভিযোগ করেন, জমিতে ধান রোপণের আগে মোবারেক খা তার কাছে স্বল্প মূল্যে ওই জমি কেনার প্রস্তাব দেন। তাতে তিনি রাজি না হয়ে ধান রোপণ করেন। এরপর থেকে মোবারেক ওই ক্ষেতে কীভাবে ফসল হয় তা দেখে নেয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন। এরই জের ধরে তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ধান ক্ষেতে আগাছানাশক স্প্রে করে ধান পুড়িয়ে দিয়েছেন। ধান পোড়ানোর এ দৃশ্য দেখে ইসহাক আলী হতাশ হয়ে পড়েছেন। তার মতে ওই জমির ধানের দাম কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা।


এ ব্যাপারে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবু বলেন, আগাছানাশক স্প্রে করে পাকা ধান পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে ওই কৃষক তার কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। তাকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, ১৭ এপ্রিল ক্ষেতের নষ্ট হওয়া ধান নিয়ে ওই কৃষক তার দফতরে এসেছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন জানিয়েছেন, এ জাতীয় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।