কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যার ৪ খুনিই ভারতে নিহত আ.লীগের সাবেক এমপি আনারের ঘনিষ্ট

0
ছবি: সংগৃহীত।

আসিফ কাজল(ঝিনাইদহ) ॥ রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যায় জড়িত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ৪ খুনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ভারতে নিহত আনোয়ারুল আজীম আনারের অত্যন্ত ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত। ভারতে আনার নিহত হওয়ার পর তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের সঙ্গেও ছবি উঠিয়েছেন।

শুধু তা-ই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের রাজনৈতিক রূপ বদলে স্থানীয় বিএনপির মিছিলেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুরো জেলাজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ঝিনাইদহ পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যায় জড়িত ৪জনের মধ্যে ৩জন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এদের মধ্যে অন্যতম আসামি মাসুম বিল্লাহকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে।

অভিযুক্ত কালীগঞ্জের (ঝিনাইদহ) ৪জন হলেন, উপজেলার রাড়ীপাড়া গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে চঞ্চল মোল্লা, একই গ্রামের মৃত তমেজ আলীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ, কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত রওশন আলী মোল্লার ছেলে জিহাদ মোল্লা এবং দামোদারপুর গ্রামের বাক্কার আলীর ছেলে হাসান আলী (পলাতক)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা বাস্তবায়নে এক নেতাকে ভাড়াটে খুনি সরবরাহে সহযোগিতা করেন হাসান আলী। দামোদারপুর এলাকার এই হাসান তার পরিচিত ৩ সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে ঢাকায় পাঠান। হাসান আলী ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের অনুসারী ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারতে এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের পর তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের সঙ্গেও তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায়। ডরিনের সঙ্গে হাসান আলীসহ কয়েকজনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে শ্যুটার হিসেবে কাজ করা মাসুম বিল্লাহও আগে সাবেক এমপি আনারের কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেন। কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাসুমের অংশগ্রহণের একাধিক ছবি ও ভিডিও নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

অনুরূপ একটি ছবিতে দেখা যায়, কালীগঞ্জ শহরের প্রধান বাসস্ট্যান্ডে যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনের বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তব্যের সময় সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন মাসুম। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলামের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হেঁটে যাওয়ার একটি ছবিও পাওয়া গেছে।

অপর দুই অভিযুক্ত জিহাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লাও এলাকায় সাবেক এমপি আনারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মারধর, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং চুরি-ডাকাতির নানা অভিযোগ রয়েছে।

আসামিদের সাথে ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাসুম নামের ওই ব্যক্তিকে আমি ঠিক চিনতে পারছি না। ভোটের প্রচারণার সময় কে কখন কোথায় এসে হাত মেলায়, তা মনে রাখা সম্ভব নয়। অভিযুক্তদের কেউ বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদের দায়িত্বে নেই এবং তারা দলটির কেউ নয়।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, ‘চার খুনির বিরুদ্ধে কোন তথ্য পুলিশ হেডকোয়াটার চাইলে দ্রুত সরবরাহ করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত তাদের কাছে কোন তথ্য উপাত্ত চাওয়া হয়নি। তাছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কিনাও তাও জানা নেই’।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, ‘ঝিনাইদহের চার ব্যক্তি রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যায় জড়িত এটা খুবই উদ্বেগের খবর। পুলিশ হেডকোয়াটার থেকে আসামিদের তথ্য নিয়ে কোন নির্দেশনা না থাকলেও ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ গোয়েন্দা মারফত আসামিদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে’।