চৌগাছায় বৃষ্টিতে ইটভাটায় ক্ষতি

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর)॥ এক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে চৌগাছার ইটভাটা মালিকদের। প্রতিটি ভাটায় কেটে রাখা কাঁচাইট বৃষ্টির পানিতে কাদা হয়ে পুনরায় মিশে গেছে মাটিতে। উপজেলার সব ভাটায় ক্ষতির পরিমাণ ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা বলে জানান ভাটা মালিকরা। মৌসুমের শুরুতে এমন ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন সেই হিসেব কষছেন মালিকরা।
বুধবার রাত হতে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত। বৃহস্পবিার দিনভর চলে বৃষ্টি। একাধারে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার ইটভাটায় কেটে রাখা ইট পুনরায় সব কাদা হয়ে মিশে গেছে মাটিতে। কিছু কিছু ভাটা মালিক পলিথিন দিয়ে ইট রক্ষার চেষ্টা করেও শেষমেষ সেটিও সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলা দেওয়ান ব্রিকস, সরদার ব্রিকস, ঐশী মল্লিক ব্রিকসসহ বেশ কিছু ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে কেটে রাখা ইট মিশে গেছে মাটিতে। কিছুটা শুকনো ইট পলেথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, সেসব ইটের অধিকাংশ নষ্ট হয়েছে। ভাটায় কর্মরত শ্রমিকরা এদিন আবহাওয়া কিছুটা ভাল হওয়ায় চেষ্টা করছেন ইট রক্ষায়। তবে কেটে রাখা ইটের মধ্যে সব ইটই নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেওয়ান ইটভাটার ম্যানেজার জহির উদ্দিন বলেন, হঠাৎ করেই বৃষ্টি হওয়ায় সব কিছুই শেষ হয়ে গেছে। কিছু ইট স্তুপ করে পলিথিন দিয়ে ঢাকতে পারলেও বেশির ভাগ ইট ছিল সম্পূর্ণ কাচা। সেগুলো মাটিতে শুকানোর জন্যে রাখা হয়। ওই ইট একটিও ভাল নেই। দেওয়ান ব্রিকসের প্রায় ১০ লাখ কেটে রাখা ইট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ভাটা মালিক হাজী আব্দুল হালিম চঞ্চল বলেন, চোখের সামনে দেখতে দেখতে কেটে রাখা ইটগুলো পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তার ভাটায় অন্তত ১২ লাখ ইট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে বলে জানান।
ঐশী মল্লিক ব্রিকসের মালিক ইউপি চেয়ারম্যান হামিদ মল্লিক বলেন, যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপন করা কষ্টসাধ্য। ইট পুড়ানোর জন্যে ভাটার ভেতরে সাজিয়ে রাখা ইট বৃষ্টিতে ভেঙ্গে পড়ে সব নষ্ট হয়েছে। আর কেটে রাখা লাখ লাখ কাঁচা ইট পানিতে গলে গেছে।
মোল্লা ব্রিকসের মালিক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে নতুনভাবে নতুন উদ্যামে কাজ শুরু করি। কিন্তু এক দিনের বৃষ্টিতে সব কিছুই এলোমেলো করে দিয়েছে। বৃষ্টিতে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলায় অন্তত ১৭টি ইটভাটা আছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভাটাগুলোতে ইটকাটার তোড়জোড় শুরু হয়। অন্য বছরগুলোর মত এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে ৫০ লাখ টাকা করে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা মনে জানান।