চৌগাছায় নিয়ন্ত্রণহারা মোটরসাইকেলে আহত শিশুসহ ৩ আরোহী ও ৫ শিক্ষার্থী

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর)॥ চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের ওপর মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেওয়ায় পাঁচ স্কুলশিক্ষার্থীসহ মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের তিনজনকে চৌগাছা হাসপাতালে ও চারজনকে যশোর ২৫০ শয্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যশোরে এক শিক্ষার্থীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১ টার দিকে চৌগাছা-যশোর সড়কের ঝাউতলা বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বুধবার দুুপর ১ টার দিকে সিংহঝুলী শহীদ মশিউর নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সামনে ঝাউতলা বাজারে নাস্তা করার জন্যে বের হয়ে সড়কে আসে। এ সময় যশোরের দিক থেকে আসা একটি মেটরসাইকেল (যশোর-ল-১৬-৪৪৫৮) ঘটনাস্থলে পৌঁছে দলবেঁধে হাঁটতে থাকা শিক্ষার্থীদের পেছন দিক দিয়ে ধাক্কা দিলে শিক্ষার্থীরা পিচের সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে।

একই সাথে মোটরসাইকেল চালক ও সাথে থাকা তার স্ত্রী ও ৩ বছরের শিশু সন্তানও ছিটকে পড়ে সড়কে। এ ঘটনায় ৫ শিক্ষার্থীসহ মোট আটজন মারাত্মক আহত হয়।

আহতরা হলেন, মশিউরনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিংহঝুলী গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে জিমি খাতুন (১৩), একই গ্রামের সবুর হোসেনের মেয়ে সুরাইয়া খাতুন (১২), আবির হোসেনের ছেলে চয়ন হোসেন (১৫), শরিফা খাতুন (১২), মশিউরনগর গ্রামের মো. রিংকুর ছেলে মো. সিয়াম (১৫) ও মোটরসাইকেল চালক উপজেলার বড় নিয়ামতপুর গ্রামের মমিনুর রহামনের ছেলে দিপু হোসেন (৩১), তার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (২০) ও ৩ বছরের কন্যা শিশু সিনথিয়া।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আহত জিমি খাতুন, চয়ন হোসেন, শরিফা খাতুন, সিয়াম হোসেন ও মেটরসাইকেল চালক দিপু হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে যশোরে রেফার করেন। বাকি আহতদের চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যশোরে চিকিৎসাধীন জিমি খাতুনের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে বিকেলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের আঘাত মারাত্মক হওয়ায় তাদেরকে যশোরে রেফার করা হয়েছে। বাকি আহতরা হাসপাতালে ভর্তি আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবু বকর জানান, স্বাভাবিকভাবেই মোটরসাইকেল চালক তার স্ত্রী- সন্তানকে নিয়ে যশোরের দিক দিয়ে এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চালক মারাত্মকভাবে আহত হলে তাকে যশোরে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি সুস্থ হলে দুর্ঘটনার কারণ জানা যাবে। দুর্ঘটনায় আহত ৭ম শেণির শিক্ষার্থী জিমি খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আমি খবর পেয়ে প্রথমে চৌগাছা হাসপাতাল ও পরে আহতদের সঙ্গে যশোর সদর হাসপাতালে চলে আসি।

থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর আমরা দ্রুতই ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যাই। শিশু শিক্ষার্থীসহ আহতদের চিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতা করি।