কেশবপুরে পাঁচদিনের বর্ষণে অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি

0

জয়দেব চক্রবর্ত্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ যশোরের কেশবপুরে গত পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষণে অধিকাংশ গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়িঘরে পানি উঠায় মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কেশবপুর উপজেলার বাগডাঙ্গা, মনোহরনগন, পাথরঘাটা, বেলকাটি, গড়ভাঙ্গা, ডোঙ্গাঘাটা, সাগরদত্তকাটি, বেতিখোলা, নারায়নপুর, কাকবাধাল, বেতিখোলা, কাটাখালি, কালিচরণপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষের বাড়ির উঠানে পানি থৈ থৈ করছে। চলাচলের জন্য উঠানে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। আবার কেউ কেউ দূর থেকে মাটি এনে ও ইট দিয়ে উঠানসহ যাতায়াতের রাস্তা উঁচু করার চেষ্টা করছেন। গ্রামের মাঠ-ঘাট তলিয়ে বাড়িঘরে পানি উঠে আসায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে গ্রামবাসী। গোখাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সাংসারিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে পয়ঃনিষ্কাশনে ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বেতিখোলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘর থেকে পাকা রাস্তায় উঠতে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। ঘর একটু উঁচু জায়গায় হওয়ায় ঘর থেকে রান্নাঘর, বাথরুমসহ সকল কাজে কলার ভেলা বা সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। মনোহননগর গ্রামের মহসীন হোসেন জানান, তারা ত্রাণ চান না, পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান। বাগডাঙ্গা গ্রামের স্বপন রায় বলেন, বাড়ির উঠানে হাঁটু সমান পানি। রান্নাঘরে চুলার ভেতরেও পানি উঠে গেছে। বিকল্প চুলা বানিয়ে কোনরকমে রান্না করতে হচ্ছে। রুমিছা বেগম বলেন, বাড়িঘরে পানি উঠার পর গোয়াল থেকে গরু বের করা যাচ্ছে না। গোখাদ্য ফুরিয়ে আসায় বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। বাথরুমও তলিয়ে গেছে। ইউপি সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।