কালীগঞ্জের শিশু তাবাচ্ছুম হত্যার সাড়ে তিন মাসেই বিচার শুরু

0
ছবি: সংগৃহীত।

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে মাত্র সাড়ে তিন মাসের (১১০ দিন) মাথায় মঙ্গলবার ঝিনাইদহ আদালতে এ মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে। বুধবার থেকেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

ঝিনাইদহ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোক্তার হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, লোমহর্ষক এই হত্যাকান্ডের একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে অভিযুক্ত করে গত ২৬ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামানের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন।

মঙ্গলবার আদালতে সরকার পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট আকিলুল ইসলাম ও রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট তরিকুল আলমের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন জানান, মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের (৩০) একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের মৃত শফি উদ্দীনের ছেলে ও বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন।

মামলার বিবরণ ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে বাদুড়গাছা গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফুটফুটে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান আবু তাহের। এরপর শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দম আটকে নিথর হয়ে পড়ে অবুজ শিশুটি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই লাশটি একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন তিনি।

ওসি আরও জানান, ঘটনার পর পরই খুনি পালিয়ে গেলেও পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে ওই দিন মধ্যরাতেই কুষ্টিয়া শহরের তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

নিহত তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম পেশায় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ও মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন। একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর এই পিতা-মা মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে অশ্রুসজল চোখে একটাই দাবি জানিয়েছেন, হত্যাকারী আবু তাহেরের যেন দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।