করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে পূর্ণ প্রস্তুতি চায় পরামর্শক কমিটি

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ‘জনসাধারণের মধ্যে শৈথিল্য’ আসার কারণে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ আসতে পারে আশঙ্কা করছে এ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এটা মোকাবিলার জন্য রোডম্যাপ তৈরি ও পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে বলেছে। রবিবার রাতে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দেওয়া হয়। দেশে গত তিন সপ্তাহ ধরে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নেমে এসেছে। অর্ধেকে নেমে এসেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। পরীার সংখ্যা অনেক কম হলেও পরীার তুলনায় শনাক্তের হারও নেমে এসেছে দৈনিক ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এমন পরিস্থিতিতে রবিবারই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শীতকালে সংক্রমণের হার বাড়ার। এ জন্য তিনি প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর রাতেই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রোডম্যাপ তৈরি ও পূর্ণ প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।
এতে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হলেও ‘স্বস্তির’ জায়গায় পৌঁছেনি। কভিড চিকিৎসায় নিবেদিত কিছু হাসপাতালে শয্যা খালি থাকছে। অন্যদিকে অন্য রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীর দেশে আসছে জানিয়ে বলা হয়, ‘বিদেশ ফেরতদের স্ক্রিনিং, প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে করোনাট্রেসার অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।’ গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৭০৫ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬২১ জন শনাক্ত হলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪০ জন, এ নিয়ে মোট ৪ হাজার ৯৭৯ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৫২ জন, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৭ জন।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বারিত করোনা-বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৬৭টি, নমুনা পরীা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৩টি। এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩২৩টি নমুনা পরীা করা হয়েছে। নমুনা পরীার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৭০৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এখন পর্যন্ত পুরুষ ৩ হাজার ৮৭৩ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন এক হাজার ১০৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ ঊর্ধ্ব ২০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ০ থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৭ জন, মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে একজনকে এবং বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন দুই জন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৩২৯ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৪০২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬৬৩ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৬২ হাজার ৮৯১ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৭৯ হাজার ২৯৩ জনকে। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে এক হাজার ২৫৮ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৫৯২ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭২ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৬ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৬ হাজার ৯০৪ জন।