স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে চেনা ছন্দে ব্রাজিল, শেষ ষোলোর আগে প্রতিপক্ষ শিবিরে কাঁপন

0
চলতি বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে আজ ভোরে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস, কুনিয়া ও রায়ানদের ছন্দময় ফুটবল টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা।। ছবি: সংগৃহীত

২০২২ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর থেকে যে ব্রাজিলকে চেনা রূপে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, অবশেষে সেই চিরচেনা জোগো বনিতোর ছায়া দেখালো সেলেসাওরা। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স সমর্থকদের মন ভরাতে না পারলেও আজ ভোরে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের প্রত্যাবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই গত দুই ম্যাচের অস্থিরতা, স্নায়ুচাপ ও কৌশলগত ভুলত্রুটি সামলে ব্রাজিল ছিল পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ, পরিণত ও শান্ত। প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের ভুলে প্রথম গোলটি এলেও সেটি ছিল ব্রাজিলের গতিময়তা ও প্রেসিংয়েরই ফল। প্রথম গোলের পর দলের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারাইস ও লুকাস পাকেতা সক্রিয় হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ব্রাজিলের দখলে চলে আসে। প্রথমার্ধে ফাউলের কারণে একটি গোল ‘বিতর্কিতভাবে’ বাতিল না হলে মাঠেই হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। হ্যাটট্রিক না পেলেও পুরো ম্যাচে বল পায়ে অনন্য পজিশনিং ও দক্ষতার মাধ্যমে ভিনি প্রমাণ করেছেন কেন তিনি এ সময়ের অন্যতম সেরা।

ব্রাজিলের এই গোছানো ফুটবলের সামনে স্কটল্যান্ড ৯০ মিনিট জুড়েই নিজেদের খেলা হাতড়ে ফিরেছে, ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক আলিসনকে কোনো কঠিন পরীক্ষার মুখেই ফেলতে পারেনি তারা। আক্রমণভাগে ভিনি-কুনিয়াদের পাশাপাশি রাফিনিয়ার জায়গায় সুযোগ পাওয়া তরুণ রায়ান তাঁর অভিষেক ম্যাচের তুলনায় এদিন দুর্দান্ত ও কার্যকর খেলেছেন। ম্যাচের তৃতীয় গোল করা কুনিয়া এবং মাঝমাঠের স্তম্ভ ব্রুনো গিমারাইসও নিজেদের দায়িত্ব শতভাগ পালন করেছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তির ডায়মন্ড ফরমেশন এই ম্যাচে দারুণভাবে কাজ করার মূল কারণ ছিল ভিনিসিয়ুস, কুনিয়া ও পাকেতার মধ্যকার স্বাভাবিক বোঝাপড়া। এই জয় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ঠিক আগে ব্রাজিলকে নিয়ে যেমন নতুন আশার জন্ম দিয়েছে, তেমনি তাদের ছন্দে ফেরার এই বার্তা প্রতিপক্ষ দলগুলোর রাতের ঘুম হারাম করার জন্য যথেষ্ট।