১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন, ফিরছে জেলে-বাওয়ালিদের কর্মচাঞ্চল্য

0

এস কে সিরাজ, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ফলে উপকূলীয় এলাকার জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীরা পুনরায় মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহকারী হাজারো মানুষের মধ্যে এ ঘোষণায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন বন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারকে ঋণ, ধারদেনা কিংবা বিকল্প পেশার ওপর নির্ভর করে সংসার চালাতে হয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম গাজী বলেন, “সুন্দরবন বন্ধ থাকাকালে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বন খুলবে শুনে নতুন করে আশার আলো দেখছি।”

সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন,একই উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর গ্রামের জেলে লিয়াকত আলী বলেন, “তিন মাস আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ ছিল। ধারদেনা করে দিন কাটাতে হয়েছে। বন খুললে আবার মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।”

স্থানীয় জেলে ও বাওয়ালিদের ভাষ্য, সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাজারো পরিবার সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া ও বৈধ বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় বন বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।

এদিকে সুন্দরবন খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন বিভাগ। জেলে-বাওয়ালিদের অনুমতিপত্র প্রদান, নিরাপদে বনে প্রবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বন খুলে দেওয়ার পর জেলে-বাওয়ালিদের বৈধভাবে বনে প্রবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বনদস্যুদের তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং বন্যপ্রাণী শিকারের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলেদের দাবি, সুন্দরবনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে তারা দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এজন্য বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উপকূলের জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে ব্যস্ততা বাড়ছে। কেউ নৌকা ও জাল মেরামত করছেন, কেউ প্রস্তুত করছেন মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। দীর্ঘ তিন মাসের অপেক্ষা শেষে সুন্দরবনের দুয়ার খুলে গেলে উপকূলের হাজারো মানুষের জীবনে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।