কেশবপুরে বাবার লাশ রেখে ২ ভাইয়ের মারামারি: এবার মাকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

0
‘বৃদ্ধ বয়সে পথেঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি’: কেশবপুরে দুই ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত বিচার চাইলেন ৭০ বছরের মা ।। ছবি: সংগৃহীত

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত বাবার লাশ রেখে দুই ভাইয়ের মারামারির ঘটনার পর এবার ৭০ বছরের বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার ছেলেদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই মা। বিতাড়িত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে নিজ মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্র জানায়, গত সোমবার ভোরে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের খালেক মান (৭৫) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরই দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান (৫২) ও আসাবুল (৪২) সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং বাবার লাশ রেখেই মারামারিতে লিপ্ত হন। সংঘর্ষে দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা আহত হলে তাঁদের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর ছোট ছেলে আসাবুল ও তাঁর স্ত্রী হালিমা খাতুন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফেরেন। তবে বাড়িতে গিয়েই তাঁরা সঙ্গে থাকা মা নুরজাহান বেগমকে (৭০) বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন বলে লিখিত অভিযোগে জানানো হয়। গৃহহীন হয়ে পড়া নুরজাহান বেগম বাধ্য হয়ে উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে তাঁর মেয়ে তাসলিমার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

যশোরের কেশবপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাই ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারি। সোমবার দুপুরে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামে ।। ছবি: সংগৃহীত

মেয়ে তাসলিমা এ বিষয়ে বলেন, “দুই ভাই মাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি তো মাকে এভাবে ফেলে রাখতে পারি না। দুই ভাই দায়িত্ব না নিলে আমিই তাঁর দেখাশোনা করব।”

এদিকে আজ দুই ছেলের বিরুদ্ধে ভরণপোষণ না দেওয়া, দুর্ব্যবহার করা এবং স্বামীকে কবর দিতে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এনে ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন নুরজাহান বেগম। অভিযোগে তিনি দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থাসহ ন্যায়বিচারের দাবি জানান। অসহায় মা নুরজাহান বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “বৃদ্ধ বয়সে আমি পথেঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ছেলেরা আমার কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না, আমি এখন বড্ড অসহায়।”

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বুধবার সন্ন্যাসগাছা গ্রামে আসাবুলের বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল। এ বিষয়ে আসাবুলের ছেলে আল আমিন জানান, “মা–বাবা বাড়িতে নেই, কোথায় গেছেন বলতে পারব না। আমার দাদি কিছুটা মাথা গরম মানুষ, কিছু বললেই বাড়ি থেকে চলে যান। তাঁকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে।”

অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান বলেন, “মা ছোট ভাইয়ের কাছে থাকতেন আর বাবা আমার কাছে থাকতেন। আমি এককভাবে কেন মায়ের দায়িত্ব নেব? দুজনকেই সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।” তবে ছোট ভাই দায়িত্ব না নিলে তিনি নিজে মায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবেন বলেও জানান।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, “অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। এই নির্যাতিত বৃদ্ধা মাকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।”