শার্শার মাছের মড়ক নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন: বিদ্যুৎ নয়, খামার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই মূল কারণ

0
শার্শার মাছের মড়ক নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন
ফাইল ফটো

যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক মাছের খামারে সাম্প্রতিক মাছের মড়কের ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছে, খামারে অতিরিক্ত মাছ মজুদ, পানির গুণগত মানের অবনতি, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের আধিক্য, অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ঘাটতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন, খামার মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ, মৎস্য বিভাগের তথ্য, পল্লী বিদ্যুতের রেকর্ড এবং পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে সম্প্রতি প্রতিবেদন জমা দেয়।

যশোরের শার্শার সোনামুখী বিলে মাছের মড়কের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪১ দশমিক ৮২ একর জলাশয়ে চারটি পুকুরে পাঙ্গাস ও কই মাছ চাষ করা হচ্ছিল। সেখানে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি মাছ মজুদ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে খামারে থাকা এয়ারেটরের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল, যা মাছের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, খামারের পানিতে অতিরিক্ত ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন তৈরি হয়েছিল। এর ফলে রাতের বেলায় অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। মাছের অতিরিক্ত ঘনত্ব, জৈব বর্জ্য এবং পানির পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে খামার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ করা হলেও তদন্ত কমিটি পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ভিন্ন চিত্র পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার রাতে সংশ্লিষ্ট ফিডারে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। একই ফিডারের আওতায় থাকা অন্য মাছের খামারগুলোতে একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। ফলে মাছের মৃত্যুর জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে একক বা প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খামারে নিয়মিতভাবে পানি পরীক্ষা, পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO), অ্যামোনিয়া ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তদন্ত কমিটি বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাছের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত এয়ারেটর স্থাপন, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা।

তদন্ত কমিটির মতে, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যাবে।