মাহমুদুল হাসানের সেঞ্চুরি ও রুয়েলের ৫ উইকেট, জাতীয় ক্রিকেট লিগে ফলো অনে বরিশাল

0
জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনে মাহমুদুল হাসান জয়ের অপরাজিত ১০২ রানে শক্ত অবস্থানে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে পেসার রুয়েল মিয়ার ৫ উইকেটে খুলনার বিপক্ষে ফলো অনায় পে পড়েছে বরিশাল।। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। অন্যদিকে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে পেসার রুয়েল মিয়ার দুর্দান্ত বোলিং তোপে খুলনার বিপক্ষে ফলো অনে পড়ে হারের শঙ্কায় দিন শেষ করেছে বরিশাল বিভাগ।

মাহমুদুলের সেঞ্চুরি, অপেক্ষায় সাদিকুর

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া এই ওপেনার চট্টগ্রামের হয়ে রাজশাহীর বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ১০২ রান তুলে অপরাজিত রয়েছেন। ১৯০ রানের এক বিশাল অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে তাঁর সাথে অপর প্রান্তে অপরাজিত রয়েছেন সঙ্গী সাদিকুর রহমান (৮৬*)।

"জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলা
মাহমুদুল হাসান এনসিএলে নিজের
৭ম সেঞ্চুরির দিনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে
৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।"
 — 
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সপ্তম সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান।। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে গত দিনের ৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে খেলতে নেমে রাজশাহীর প্রথম ইনিংস থামে ৩৬৪ রানে। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৯৬ রান খরচায় তুলে নেন ৪টি উইকেট। জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলা মাহমুদুলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি সপ্তম সেঞ্চুরি। ৮৭ রানের মাথায় এই সংস্করণে ৩ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন ২৩টি টেস্ট খেলা এই ওপেনার।

রুয়েলের ৫ উইকেট, ফলো অনে বরিশাল

ইনিংসে হারের চরম শঙ্কা নিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বরিশাল বিভাগ। খুলনায় স্বাগতিক খুলনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ফলো অনে পড়েছে দলটি। ৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে আগের দিন শেষ করা খুলনা তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে তোলে ৪২৬ রান।

মধ্যাহ্নবিরতির পর ইনিংস শুরু করে বরিশাল প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৮.৪ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর ফলো অন করতে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশালের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৩ রান। বর্তমানে খুলনার প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ২৮৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে দলটি।

৫ উইকেট পেয়েছেন বরিশালের বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া ।। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ইনিংসে আজ সকালে ৪৪ রান নিয়ে খেলতে নেমে ফিফটি স্পর্শ করেই বিদায় নেন আফিফ হোসেন। তাঁকে সাজঘরে পাঠিয়ে চতুর্থ উইকেট পাওয়া রুয়েল মিয়া পরবর্তীতে শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই বাঁহাতি পেসার এটি নিয়ে অষ্টমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন।

বরিশালের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৪ রান আসে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামা অধিনায়ক ইফতেখার হোসেনের ব্যাট থেকে। খুলনার তিন পেসার সফর আলী (২/৩৪), আবদুল হালিম (২/২২) ও মেহেদী হাসান রানা (৩/২৫) এবং অফ স্পিনার শেখ পারভেজ (৩/১০) নিজেদের মধ্যে উইকেটের পতনগুলো ভাগ করে নেন।

মিরপুরে বিপদে ঢাকা

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে আগের দিনের খেলা শুরু করা রংপুরের প্রথম ইনিংস অলআউট হওয়ার আগে সংগ্রহ করে ৩৪০ রান। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সেশনে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে দিন শেষে ৬ উইকেটে ১২০ রান তুলে বেশ বিপদে পড়েছে ঢাকা বিভাগ।

ব্যাটিংয়ে ৭৫ রান করার পর বোলিংয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ।। ছবি: সংগৃহীত

দলীয় ৭৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আর বিপদ বাড়তে না দিয়ে ক্রিজ আঁকড়ে ধরে দিন শেষ করেছেন তাইবুর রহমান (৩২*) ও সুমন খান (১৯*)। রংপুরের মিডিয়াম পেসার চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান সর্বোচ্চ ২টি উইকেট দখল করেন। রিজওয়ান এর আগে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রানের ইনিংসে ভর করে রংপুরকে বড় পুঁজি এনে দেন; আট ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক এই খেলোয়াড়ের এটি প্রথম ফিফটি। আর ঢাকার হয়ে বাঁহাতি স্পিনার আরিফ আহমেদ ৯২ রানে নেন ৪টি উইকেট।

সিলেটের লিড নেওয়ার লড়াই

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ২৭৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা ময়মনসিংহ অলআউট হয় ৩১১ রানে। সিলেটের পেসার তোফায়েল আহমেদ এবং দুই স্পিনার নাঈম আহমেদ ও নাবিল সামাদ প্রত্যেকে ৩টি করে উইকেট বণ্টন করে নেন। জবাব দিতে নেমে সিলেট তাদের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে। সিলেটের অধিনায়ক ও ওপেনার জাকির হাসান সর্বোচ্চ ৬০ রানের ইনিংস খেলেন। দলটির হয়ে পাঁচে নামা আসাদউল্লাহ আল গালিব ৫৫ রানে এখনো অপরাজিত আছেন।