খুলনায় প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে আহত করল দুর্বৃত্তরা

0
খুলনা মহানগরীর কাসেম সড়কে আশিকুজ্জামান জনি নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করেছে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।। প্রতীকী ছবি

খুলনায় প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে আহত করার খবর পাওয়া গেছে। খুলনা মহানগরীতে পুলিশের এক পরিদর্শকের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রকাশ্যে আশিকুজ্জামান জনি (৩৪) নামের এক যুবককে গুলি করে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নগরীর সদর থানার আওতাধীন ৩ নম্বর কাসেম সড়কে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

গুলিবিদ্ধ জনি কাসেমনগর এলাকার মৃত হামিদের ছেলে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হেলমেট পরা দুই যুবক মোটরসাইকেলে চড়ে এসে কাসেম সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা জনির সঙ্গে কথা বলেন। কথাবলার একপর্যায়ে তারা মোটরসাইকেল থেকে নেমে জনিকে তাড়া করে এবং তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান।

দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে জনির নিতম্বে গুলি লাগে। গুলির শব্দে ও জনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, নগরীতে গুলিতে এক যুবক আহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে খুলনা জেলা পুলিশের এ-সার্কেল কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম নগরীর কেএমপি-সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। ওই হামলার ঘটনায় শুক্রবার রাতে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তার ওপর সাম্প্রতিক এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সদস্যদের একা চলাচল না করার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় যৌথ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ অভিযান চলাকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। তাই সার্বিক অবস্থা ও ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার নিশ্চিত করা এবং রাতে একা চলাচল না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিটি ইউনিটপ্রধানকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।