বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে পক্ষপাতিত্ব, তদন্ত চেয়ে স্মারকলিপি

0
ছবি: সংগৃহীত।

বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ দাবি করে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি তানিয়া রহমান সুমি স্বাক্ষরিত অভিযোগের একটি অনুলিপি বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে দেওয়া হয়।

এর অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে তদন্তপূর্বক নিয়োগ তালিকা বাতিল করে পুনরায় সার ডিলার তালিকা চূড়ান্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর বাঘারপাড়া পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের অনুমোদিত সার ডিলারদের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের ডিলারের নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় একজন করে সার ডিলার নিয়োগে পক্ষপাতিত্ব ও উপজেলা বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ও একাধিক মামলার আসামিদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহলে সুপারিশে এবং অর্থের বিনিময়ে এসব অনিয়ম করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

উপজেলার জহুরপুর ও বন্দবিলা ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যথাক্রমে মেসার্স কাজী এন্টারপ্রাইজের শিমুল হোসেন ও মেসার্স রুনা এন্টারপ্রাইজের আজিজুর রহমান। এখানে জেলা প্রশাসকের সুপারিশে অযোগ্যদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি। একই নিয়োগে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ধলগ্রাম ইউনিয়নের ধলগ্রাম বাজারে মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের সোহেল রানা ফারুক।

সোহেল রানা আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা অনুসরন করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দোহাকুলা ইউনিয়নে বালিয়াডাঙ্গা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের আব্দুর রশিদ ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বিএনপির দুঃসময়ে ছিলেন না বলে দাবি করা হয়েছে। সার ডিলার নিয়োগ তালিকায় দরাজহাট ইউনিয়নে হাবুল্যা বাজারের ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের ফয়সাল জামালের নাম রয়েছে।

ফয়সাল ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাপুষ্ট টিসিবির ডিলার। তিনি কিভাবে সারের ডিলারশিপ পেতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।

এছাড়া বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজারের মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের হাবিবুর রহমান একাধিক প্রতারণা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।

ফৌজদারি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সরকারি ডিলারশিপ পাওয়া যায় না দাবি করে তদন্ত চাওয়া হয়েছে। মৌখিক অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হাবিবুরের নিজস্ব কোনো গোডাউন নেই। তিনি অন্যের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে গোডাউন দেখিয়ে এ ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন।

এসব অভিযোগ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রোববার সকালে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অনিচুর রহমান, রায়পুর ইউনয়িন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম সৌদি, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শিকদার, ধলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খয়বার হোসেন মোল্লা, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ মানিক, বিএনপি নেতা হারুনর রশিদসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ভুপালী সরকার জানান, সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাসিক মিটিংয়ে ছিলাম। শুনেছি ডাক ফাইলে স্মারকলিপির একটি অনুলিপি জমা হয়েছে।