বেনাপোল দিয়ে দেশে এসেছে ছাত্রলীগ নেতা রোটনের লাশ

0
ছবি: সংগৃহীত।

বেনাপোল (যশোর)সংবাদদাতা॥ ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে দেশে ফিরেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ।

রোববার বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার লাশ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন।

এরআগে তার ভাগ্নে সোহানুর রহমানের কাছে কলকাতা থেকে লাশ হস্তান্তর করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনাপত্তিপত্র দেন বলেও জানায় দূতাবাস। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

মরদেহ দেশে আনা ও হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় বেনাপোল সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন, বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান ও বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। এ ছাড়া ডিবি পুলিশ ও বিজিবির বিশেষ দলও দায়িত্ব পালন করে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। তার মরদেহ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর যথাযথ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলকাতা থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা ও নিকটআত্মীয় সোহানুর রহমান বাংলাদেশে আসেন। ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে অ্যাম্বুলেন্সটি বেনাপোল চেকপোস্টে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ অংশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মরদেহ গ্রহণের জন্যে স্বজনরা আগে থেকেই একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।

মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। মৃত্যুকালে তার স্ত্রী ও এক বছর বয়সী যমজ শিশুপুত্রসহ রাজনৈতিক সহকর্মী রয়েছে।