চৌগাছার ভাস্কর বিশ্বজিৎ ৩০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছার ভাস্কর বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস একাধারে ৩০ বছর প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত আছেন। এ পেশা তাঁর সংসার চালানোর কাজ সচল রেখেছেন। কাদা মাটি নিয়ে খেলা ভাস্কর বিশ্বজিতের হাতে তৈরী প্রতিমা চৌগাছা ছাড়াও পার্শবর্তী বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বিক্রি হয়।

এ বছর তিনি ১৪টি প্রতিমা তৈরি করেছেন, চাহিদা ভালো থাকায় বেশ লাভবান হবেন বলে মনে করছেন।

চৌগাছা পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের হালদারপাড়ার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, পিতা মৃত চৈতন্য কুমার বিশ্বাস। তার আগের বড়ি ছিলো মাগুরার শালিখা উপজেলায়। প্রায় ৩৭ বছর তিনি চৌগাছায় সপরিবারে চলে আসেন।

এরপর কপোতাক্ষ নদের পাড়ে গড়ে ওঠা অত্যন্ত মনোরম একটি মহল্লা হালদারপাড়ায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। বাড়ির সামেনর অংশে একটুকরো খালি জায়গা বছরে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে সেখানেই তৈরি করেছেন প্রতিমা তৈরির কারখানা।

এই কারখানায় কোনো আধুনিক ব্যবহার হয় না। তার কর্মযজ্ঞ এতোই নিখুঁত যে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার হিন্দু ধর্মের মানুষ তার কাছে আসেন প্রতিমা কিনতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তার কারখানায় সারি সারি সাজানো আছে অসংখ্য প্রতিমা। শারদীয় উৎসবে এই সব প্রতিমা চৌগাছা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলাতে চলে যাবে। বেশ আগে ভাগেই তিনি এই কর্মযজ্ঞ শুরু করেন এখন শেষ সময় তাই কিছুটা বেড়েছে ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিমা চলে গেছে স্বস্ব মণ্ডপে, সব ঠিক থাকলে দু একের মধ্যে প্রতিমাগুলো চলে যাবে মণ্ডপে মণ্ডপে।

কথা হয় ভাস্কর বিশ্বজিৎ এর সাথে। তিনি বলেন, খুব ছোট বেলাতে বাবার সাথে নিজ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে যেতাম প্রতিমা তৈরি করতে। বাবা তৈরি করতেন আর আমি তাকে সহযোগিতা করতাম।

মূলত সেই থেকেই আমার কাঁদামাটির সাথে খেলা শুরু। এরপর চলে আসি চৌগাছায়, এখানে আসার পর প্রতিমা বানানো মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি, আজও সেই পেশাতে আছি। বছরের বার মাসই কোনো না কোনো পূজা তো থাকেই। সে কারণে আমাকে প্রতিমা তৈরি করে যেতে হয়। তবে শারদীয় উৎসব এলে বেড়ে যায় ব্যস্ততা।

এ বছর মেয়ে অর্পা বিশ্বাস ছাড়াও তিনজন সহকারীকে সাথে নিয়ে কাজ করছেন। একটি প্রতিমা এবার ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপজেলায় ৫১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে।

চৌগাছা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক গোবিন্দ কুমার বিশ্বাস বলেন, ভাস্কর বিশ্বজিৎ নিখুঁত হাতে কাজ করেন. সে কারণে তার হাতে তৈরি প্রতিমার চাহিদা বেশ। মূল কথা হচ্ছে আমরা যে পেশায় তাকি না কেন পেশাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে সে কখনো ঠকে না তার প্রমাণ ভাস্কর বিশ্বজিৎ।