খানজাহান আলীর দিঘিতে কুমির ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

খাদেমদের আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

0
বাগেরহাটে দিঘির কুমির ফেরতের দাবিতে খাদেমদের আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

বাগেরহাট সংবাদদাতা, লোকসমাজ :

বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমির পুনরায় দিঘিতে অবমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাজারের খাদেমরা।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এক ধরনের অবিচার করা হয়েছে। এর আগেও চিকিৎসার কথা বলে দিঘি থেকে দুটি কুমির নিয়ে যাওয়া হলেও সেগুলো আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে কুমিরটি আবার দিঘিতে ফিরিয়ে দিতে হবে। বাগেরহাটের ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাজারের খাদেম, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে হযরত খানজাহান আলী (রহ.) দিঘিটি খনন করার পর পানির নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সেখানে কুমির অবমুক্ত করা হয়। এরপর থেকে মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতি একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রজনন না হওয়া, অসুস্থতা এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় একে একে কুমিরগুলোর সংখ্যা কমতে থাকে। সর্বশেষ দেশীয় বংশধারার কুমিরটির মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে ছয়টি কুমির এনে দিঘিতে অবমুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে সেগুলোর বেশ কয়েকটি মারা যায়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি কুমির মারা যাওয়ার পর দিঘিতে মাত্র একটি স্ত্রী কুমির অবশিষ্ট ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিরটির মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত প্রাণীর ওপর হামলার ঘটনাও আলোচনায় আসে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

সবশেষ গত ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার-সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারী ঘাটে গোসল করতে নামা সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তারকে কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ২ জুন ভোরে দিঘি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩ জুন কুমিরটিকে আটক করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে খানজাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের প্রায় সাড়ে ৬০০ বছরের ইতিহাসের অবসান ঘটে।