ফিদেল কাস্ত্রোর শততম জন্মদিনে যশোরে আলোচনা সভা

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর শততম জন্মদিন উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের বিবর্তন মঞ্চে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ, যশোর জেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে।

হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন মুস্তাফিজুর রহমান কবির। এতে ফিদেল কাস্ত্রোর রাজনৈতিক জীবন, কিউবার বিপ্লব, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন মফিজুর রহমান রুননু, অধ্যাপক ইসরারুল হক, আহসান উল্লাহ ময়না, শামীম বিশ্বাস ও লেখক কাইয়ুম শিকদার।

বক্তারা বলেন, কিউবার স্বৈরশাসন, বৈষম্য, বিদেশি আধিপত্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোর রাজনৈতিক বিকাশ ঘটে। ১৯৫৩ সালের মনকাডা ব্যারাক আক্রমণ, কারাবরণ, মেক্সিকোতে নির্বাসন এবং ১৯৫৬ সালে গ্রানমা নৌযানে কিউবায় প্রত্যাবর্তনের পর সিয়েরা মায়েস্ত্রায় গেরিলা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বিপ্লবী আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসেন।

আলোচনায় বক্তারা ফিদেলের ‘কীভাবে আমি কমিউনিস্ট হলাম’ বক্তব্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শোষণ-বৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক চেতনাকে ক্রমে সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ-লেনিনবাদের দিকে নিয়ে যায়।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর ভূমি সংস্কার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জাতীয়করণের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের বিরুদ্ধে কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফিদেল দৃঢ় অবস্থান নেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার মূল্যায়নে মানবাধিকার, বিরোধী মত ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, ফিদেলের বিপ্লবী ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা দুই দিকই ইতিহাসের আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সভা শেষে ফিদেল কাস্ত্রোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।