ঝিকরগাছায় অস্তিত্ব হারাচ্ছে হরিহর নদ, পানিবন্দি কয়েক গ্রামের মানুষ

আড়াআড়ি বাঁধ, পুকুর ও মাছের ঘেরে বন্ধ পানিপ্রবাহ; জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ

0
ঝিকরগাছায় অস্তিত্ব হারাচ্ছে হরিহর নদ

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর), লোকসমাজ : যশোরের ঝিকরগাছায় একসময়ের খরস্রোতা হরিহর নদ এখন প্রায় অস্তিত্ব হারানোর পথে। নদীর বুকে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে পুকুর ও মাছের ঘের নির্মাণ, অপরিকল্পিত মাটি ভরাট এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং কৃষিজমি ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের লাউজানী, মল্লিকপুর, কাশিপুর, ঝাউদিয়া, পদ্মপুকুর, চাঁপাতলা, মির্জাপুর এবং পৌরসভার কীর্তিপুর গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদীর বিভিন্ন অংশ দখল করে পুকুর ও মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। অনেক স্থানে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশখালও রাখা হয়নি।
ফলে ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের লাউজানী, মল্লিকপুর, কাশিপুর এবং যশোর সদরের ছোট মেঘলা, বড় মেঘলা ও করিচা গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার কৃষকের বীজতলা ডুবে নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পুলেরহাট-রাজগঞ্জ সড়কের গোয়ালদাহ বাজার এলাকা থেকে মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে হরিহর নদীর প্রবাহ এখনও বিদ্যমান থাকলেও ঝিকরগাছা উপজেলার দোস্তপুর থেকে ধরারঘাট মহাশ্মশান, চাঁপাতলা, পদ্মপুকুর, মল্লিকপুর, ঝাউদিয়া, লাউজানী ও কীর্তিপুর গ্রামের পাগলাদাহ মহাশ্মশান সংলগ্ন কাটাখাল পর্যন্ত নদীর বেশিরভাগ অংশ ভরাট ও দখলের কারণে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
বিশেষ করে ধরারঘাট মহাশ্মশান এলাকার পর কয়েকটি মাছের ঘের ও পুকুরে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে মল্লিকপুর ও চাঁপাতলা গ্রামের নদীপাড়ের অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। পাশাপাশি কৃষিজ ফসল ও গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত হরিহর নদ খনন এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণ না করা হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তারা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, “রেললাইন ও যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত খালটি সামান্য খনন এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হলে মাঠের পানি দ্রুত নেমে যাবে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর মধ্যে খনন করা পুকুরগুলোর পাশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
আমন চাষি জহুরুল ইসলাম বলেন, “চার বিঘা জমিতে রোপণের জন্য তৈরি করা আমার বীজতলা পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজ ধান কিনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি চাষাবাদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।”