বাজার দরে বাড়তি চাপ, হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা

এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে গড়ে ১০ টাকা।

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন, লোকসমাজ : টানা বর্ষণে যশোর অঞ্চলের সবজি ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মাঠে পানি জমে থাকায় এবং শ্রমিক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ ব্যবস্থা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে গড়ে ১০ টাকা।

বৃষ্টির প্রভাব থেকে বাদ যায়নি বর্ষার জনপ্রিয় মাছ ইলিশও। ভরা মৌসুমেও ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। একই সঙ্গে অন্যান্য মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গ্রীষ্মকালীন নতুন মৌসুমি সবজি উঠলেও দাম রয়েছে তুলনামূলক বেশি। বিক্রেতাদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টিতে মোকামে সবজির আমদানি কমে গেছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষেতের ফসল।
বড় বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা দাম বেড়েছে। বর্তমানে গুটি উচ্ছে ১১০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ওল ১০০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, মুখিকচু ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কুমড়া ৫০ টাকা, কুশি ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং পটল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভারি বর্ষণে সবজি বাজারে আগুনতবে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বড় বাজারের এইচএমএম রোডের ‘আরিফ ভাণ্ডার’ আড়তের স্বত্বাধিকারী শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর ও সুজিত কাপুড়িয়া বাবলু বলেন, কয়েকদিন টানা রোদ উঠলে পানিতে ডুবে থাকা অনেক সবজি পচে যেতে পারে। এতে সরবরাহ আরও কমে গিয়ে বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।

বর্ষাকালকে সাধারণত ইলিশের ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। আষাঢ় শেষের দিকে এলেও নদী ও সাগরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও অনেক জেলেকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
মৎস্যজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর নাব্যতা সংকট, দূষণ, জাটকা নিধন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও সরবরাহে।
যশোর বড় বাজার মাছবাজারের খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে দেড় কেজির বেশি ওজনের নদীর ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪,২০০ টাকা কেজি দরে। ১ কেজি ১০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩,৬০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩,১০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ টাকা এবং ৬০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২,৩০০ থেকে ২,৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সাগরের নোনা পানির ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।
ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের ও মো. রেজাউল জানান, বড় সাইজের বাইন মাছ ১,২০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকা, ট্যাংরা ৮০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চার কেজি ওজনের রুই মাছ ৪০০ টাকা, আড়াই কেজি ওজনের কাতল মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পাঙ্গাশ মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মুরগি ও মাংসের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের কেজি ১,২০০ টাকা এবং মাদি ছাগলের মাংস ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঠেরপুল এলাকায় গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়।

সার্বিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শফিকুল হাকিম বলেন, “একসঙ্গে সবজি, মাছ ও মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”