সবজির সরবরাহ কমে বাজারে আগুন, বেড়েছে মাছ-ডিমের দাম

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ থেমে থেমে অব্যাহত ভারী বর্ষণে যশোর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে গত কয়েক দিনে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ইলিশ, অন্যান্য মাছ ও ডিমের দাম।

অন্যদিকে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে খামারের মুরগি। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

যশোর সদর ছাড়াও চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও মনিরামপুর উপজেলার নিচু জমিতে অবস্থিত সবজি ক্ষেতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার উৎপাদিত সবজি বড় বাজারে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় চাষিরা জানান, একটানা বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় গাছের গোড়া পচে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।

সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বিক্রেতারা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

রোববার বড় বাজারের এইচএমএম রোডের খুচরা সবজি বিক্রেতা নির্মল সাহা জানান, গাজর ও কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি ১২০ টাকা, উচ্ছে, ওল, বেগুন ও টমেটো ১০০ টাকা, শসা ৯০ টাকা, বরবটি ও ঝিঙে ৮০ টাকা, মুখিকচু, ঢ্যাঁড়স ও কাকরোল ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা, কুমড়া ও কুশি ৫০ টাকা, পটল ও কাঁচকলা ৪০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে ভরা মৌসুমেও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় আরও এক দফা বেড়েছে ইলিশের দাম। পাশাপাশি অন্যান্য মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

বড় বাজার মাছবাজারের খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, এক কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের নদীর ইলিশের কেজি ৪ হাজার ৫০০ টাকা, এক কেজি ১০০-২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ টাকা, সাগরের ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ৩০০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ২০০-২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে। অতিরিক্ত দামের কারণে বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।

মাছবাজারের খুচরা বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, আব্দুস সালাম ও আব্দুল কাদের জানান, রোববার বাগদা চিংড়ি আকারভেদে ৭০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, বাইম মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ট্যাংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, জাপানি রুই ২৫০ টাকা, পুঁটি মাছ ৮০০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের রুই ৩৫০ টাকা, বাটা মাছ ২২০ টাকা এবং চাষের পাবদা মাছ ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছর এ সময় বাজারে ইলিশের আধিক্যের কারণে অন্যান্য মাছের চাহিদা কম থাকত। তবে এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। মনিরামপুর উপজেলায় বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক হারে পাবদা মাছের চাষ হচ্ছে এবং নিয়মিত ভারতে রফতানি করা হচ্ছে।

মনিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা গ্রামের পাবদা চাষি মহিবুল্লাহ গুলদার জানান, এলাকায় পাবদা মাছের চাষ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য মাছের চাষ কমেছে। বাজারে অন্যান্য মাছের সরবরাহও আশানুরূপ নয়। ইলিশের ঘাটতির কারণে অন্যান্য মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দামও কমছে না।

অপরদিকে অতিবর্ষণে অনেক খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মুরগির উৎপাদন কমেছে বলে জানান বিক্রেতারা।

রোববার বড় বাজারে লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

খামারের মুরগির ডিমের দামও বেড়েছে। বাদামি রঙের ডিম প্রতিটি ১১ টাকা এবং সাদা ডিম ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতিকেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা এবং মাদি ছাগলের মাংস ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজার করতে আসা মধ্যম আয়ের ক্রেতা আসগর আলী বলেন, বাজার খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বাজার তদারকি জোরদার করে অতিরিক্ত মুনাফালোভীদের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানান।