অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণায় ১৭ সংবাদকর্মীকে সম্মাননা

0
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণায় ১৭ সংবাদকর্মীকে সম্মাননা

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বস্তুনিষ্ঠ ও মানসম্মত সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ছয়টি সংবাদমাধ্যমের ১৭ সাংবাদিককে ‘জুন-২০২৬ সেরা সাংবাদিক’ সম্মাননা দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নির্বাচিত সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এবিজি) সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী ও ডিএমডি (ফাইন্যান্স) ইমরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশ ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সাংবাদিকদের স্বীকৃতি দিতে বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে প্রতি মাসে ১২ জনকে ‘মাসসেরা সাংবাদিক’ হিসেবে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জুন মাসের সেরা সাংবাদিকদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার ও নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক একরামুল হক ভূঁঞা (লোটন একরাম) ও নির্বাহী সম্পাদক আফাজ উদ্দিন বিপ্লব, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক এ কে এম মঞ্জুরুল হক, ডেইলি সানের সম্পাদক মো. রেজাউল করিম লোটাস, নিউজ২৪-এর হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খানসহ ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের কণ্ঠ থেকে ‘চরম দুরবস্থায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ : শিখন ঘাটতিতে ডাক্তারি ডিগ্রি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য শিমুল মাহমুদ, ‘এক রিচার্জে ১৮০-২০০ ডিজিট, বিপাকে গ্রাহক’ প্রতিবেদনের জন্য সজীব আহমেদ এবং ‘কর্তার দাপটে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অফিস হয়ে গেল রেস্ট হাউজ, কেনাকাটায় অনিয়ম’ প্রতিবেদনের জন্য চট্টগ্রামের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার অনিক আখন্দ সম্মাননা পান।

বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে ‘মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কনডেম সেলে এক দশক : শিউলির পর এবার মুক্তি পাচ্ছেন মাশকুরা’ প্রতিবেদনের জন্য ইলিয়াস সরকার এবং ‘১৫ বছর পর পর এনআইডি নবায়ন করতে হবে’ প্রতিবেদনের জন্য ইকরাম-উদ-দৌলা পুরস্কৃত হন। এছাড়া আবির রহমানের ‘কেপ ভার্দে-কুরাসাও পারলে বাংলাদেশ কেন পেছনে’, জিএম মুজিবুরের ‘ইট-পাথরের নগরে হারিয়ে যাচ্ছে পাখির আবাস, সংকটে বাস্তুতন্ত্র’ এবং চট্টগ্রাম ব্যুরোর মিজানুর রহমানের ‘পাহাড় হারাচ্ছে চট্টগ্রাম, বাড়ছে ঝুঁকি’ শীর্ষক প্রতিবেদনও পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে ‘কোটি টাকার কাগুজে গাছ দিচ্ছে না ছায়া!’ প্রতিবেদনের জন্য শামীম আহমেদ, ‘অপরাধের কারখানা সোশ্যাল মিডিয়া’ প্রতিবেদনের জন্য মাহবুব মমতাজী এবং ‘ভয়ংকর জম্বি এখন বাংলাদেশে’ প্রতিবেদনের জন্য ইমরান রহমান সম্মাননা লাভ করেন।

ডেইলি সান থেকে এহসানুল হক জসিম ও আসাদুল ইসলাম যৌথভাবে ‘Environmental Justice Turns Into a Wild Goose Chase’ প্রতিবেদনের জন্য সম্মাননা পান। এছাড়া ‘SDG Deadlines Loom, PWD Workforce Still Untapped’ প্রতিবেদনের জন্য রফিকুল ইসলাম এবং ‘Can High Rates Revive Investment?’ প্রতিবেদনের জন্য মৌসুমী ইসলাম পুরস্কৃত হন।

নিউজ২৪-এর সাজ্জাদ হোসেন ‘ঘুষের ফাঁদে প্রবাসীর স্ত্রী, তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে প্রতিমন্ত্রী’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য সম্মাননা লাভ করেন। অন্যদিকে টি-স্পোর্টসের মোমিন রোহন ‘বাবা হাসপাতালের প্রহরী, ছেলে জাকির বাংলার উসাইন বোল্ট, নতুন কুঁড়ির সেরা বালক স্প্রিন্টার’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য স্বীকৃতি পান।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে বসুন্ধরা গ্রুপ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের কাজের স্বীকৃতি দিতে প্রতি মাসেই এ সম্মাননা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বস্তুনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী মানসম্পন্ন সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতেই এ সম্মাননা চালু করা হয়েছে।

ডিএমডি (ফাইন্যান্স) ইমরুল হাসান বলেন, গ্রুপের প্রতিটি সংবাদমাধ্যম থেকে মানসম্মত প্রতিবেদন নির্বাচন ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং নির্ধারিত কমিটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। এতে বিভিন্ন বিটের প্রতিবেদনের গুণগত মান যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্পাদকরা সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন তৈরিতে উৎসাহ দেওয়ার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ সম্মাননা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা আরও দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হবেন।